প্রচারণা না থাকাতেই বাড়ছে বিশৃঙ্খলা
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০১৪, ২২:৫১
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা না থাকায়ই বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। আচরণ বিধি ভঙ্গ করে প্রতিনিয়ত অনিয়ম হচ্ছে। নির্বাচনের নিয়ম-কানুনের ব্যাপারে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বেশিরভাগ কর্মকর্তা অনভিজ্ঞ। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে বেশিরভাগ বিশৃঙ্খলা ঘটেছে ভোটকেন্দ্রে। অথচ ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে প্রিজাইডিং অফিসাররা নির্বাচনী আইন মানছেনই না। ফলে ভোটকেন্দ্রেই আচরণবিধি ভঙ্গের মহোত্সব চললেও তা সহিংসতার দিকে না গড়ানো পর্যন্ত টনক নড়ছে না। যদিও দ্বিতীয় ধাপে সহিংসতার কারণ হিসাবে কমিশন মনে করছে, প্রথম ধাপের ফলাফল আগে জেনে যাওয়ায় পরের ধাপে জয়ের জন্য রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে করে সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা ভেঙ্গে পড়ে।
নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ ইত্তেফাককে বলেন, প্রচারণা কমিশনের চেয়ে প্রার্থী-ভোটাররাই বেশি করে। প্রচারণার ঘাটতি না থাকলেও প্রথম ধাপের ফলাফলের পর দ্বিতীয় ধাপে রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী জয়ে আরো তত্পর হয়ে পড়ে। এতে কিছু সহিংসতা ঘটে। উপজেলা নির্বাচনে সহিংসতা যেখানে ঘটেছে, সেখানে ব্যবস্থা নিয়েছি। সহিংসতাকারী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা ইত্তেফাককে বলছেন, নির্বাচনের আচরণবিধি সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা না থাকাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। ইসির কর্মকর্তারা ইত্তেফাককে বলেছেন, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা এবং প্রিজাইডিং অফিসারদের দায়িত্ব সম্পর্কে উপজেলা নির্বাচনের ম্যানুয়ালে ২২টি নিয়ম দেয়া আছে। এ সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকাতে বিশৃঙ্খলার ঘটনা বেশি হচ্ছে। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদেরকে আইন-কানুন সম্পর্কে ভালোভাবে প্রশিক্ষণ না দেয়ার কারণে সহিংসতা কমানো যাচ্ছে না। গতানুগতিক প্রশিক্ষণের ফলে অধিকাংশ নিয়ম-কানুন তারা জানতে পারেন না। ফলে ভোটকেন্দ্র কেন্দ্রিক অনিয়ম বিশৃঙ্খলা ঘটেই চলছে। ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে প্রচারণা না থাকলে এবং ভোটকেন্দ্রের মধ্যে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট না এমন লোকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা অনেকাংশেই কমে যেত।
উপজেলা নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের ২শ’ গজের মধ্যে ভোটার স্লিপ বিতরণ পর্যন্ত করতে পারবেন না। উপজেলা নির্বাচনী আইন অনুসারে ভোটকেন্দ্রে ভোটের জন্য প্রচারণা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ভোটারদের নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ভোট দিতে উত্সাহিত করতে কোনো ধরনের নোটিস, বিজ্ঞাপন, ব্যানার বা পতাকা প্রদর্শন বা সংকেত দেয়াও নিষিদ্ধ। ভোটকেন্দ্রে শুধুমাত্র ভোটকেন্দ্রের নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট, পোলিং অফিসার, কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত ব্যক্তি এবং ভোটারগণ প্রবেশ করতে পারবেন।
ভোট গ্রহণের দু’ঘন্টা পূর্বে প্রিজাইডিং অফিসারের ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্নের কথা রয়েছে। যদি কোন সময় প্রিজাইডিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কোন কারণে ভোট গ্রহণ বিঘ্নিত বা বাধাগ্রস্ত হয় এবং ধার্যকৃত ভোট গ্রহণের সময় পুনরায় আরম্ভ করা সম্ভব নয়, তা হলে তিনি অবিলম্বে ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দিতে পারবেন। ভোটবন্ধ করার পর রিটার্নিং অফিসারকে শুধু অবহিত করবেন মাত্র। এমন নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। অধিকাংশ প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এসব নিয়ম-কানুন জানেনও না।
ইসিতে একের পর এক অভিযোগ
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের শঙ্কা প্রকাশ করে প্রতিদিনই অভিযোগ আসছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। আচরণবিধি লঙ্ঘন, হামলা-ভাংচুর-কেন্দ্র দখলের আশঙ্কার ব্যাপারে আগাম অভিযোগ করছেন প্রার্থীরা। তবে কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না প্রার্থীরা। এরকম শত শত অভিযোগ এলেও তা ফাইলবন্দী করে রাখা হচ্ছে।
গত রবিবার ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি প্রতিপক্ষ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ বেশ কিছু অভিযোগ করেছেন। এভাবে চলতে থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন।
নারায়ণগঞ্জ সদর থেকে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। ভোলার মনপুরা উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী সামসুদ্দিন চৌধুরী-বাচ্চু লিখেছেন, এ উপজেলায় সব কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মফিজুল হক পুন:নির্বাচনের আবেদন জানিয়েছেন।