১০ ট্রাক অস্ত্র আটকে পুরস্কৃত সেই দুই সার্জেন্ট
নির্যাতন কারাবাস শেষে দশ বছর পর স্বীকৃতি
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০১৪, ২২:৫১
দায়িত্ব পালনের অংশ হিসাবেই দশ ট্রাক অস্ত্র আটক করেছিলাম। ভেবেছিলাম কর্তৃপক্ষ পুরস্কৃত না করলেও অন্তত ধন্যবাদটুকু জানাবে। কিন্ু্ত শেষটায় কী পেলাম? চাকরি হারালাম, ভোগ করলাম অমানুষিক নির্যাতন, অস্ত্র মামলায় আসামি হয়ে দীর্ঘ কারাবাস। তবে সবকিছু ভুলতে পারলেও সেই নির্যাতনের চিহ্ন আজও শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছি। জানি সবকিছুর মালিক আল্লাহ। তিনি আমাদের রক্ষা করেছেন। ফিরে পেলাম চাকরি, প্রাপ্য সম্মান। আর দশ বছর পর পেলাম স্বীকৃতি (পদক)। কী বলবো ? যখন পুলিশ সদর দফতর থেকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স প্যারেডে (মহড়া প্যারড) অংশগ্রহণের (পদকের জন্য) চিঠি পেলাম, তখন আবেগ আর ধরে রাখতে পারিনি। বাসায় ফিরে সন্তানদের জড়িতে ধরে প্রাণ ভরে কেঁদেছি। নিজেকে মনে হয়েছে পৃথিবীর ভাগ্যবান মানুষের মধ্যে একজন। কথাগুলো বহুল আলোচিত দশ ট্রাক অস্ত্র আটকের অন্যতম নায়ক সার্জেন্ট হেলাল উদ্দিন ভুঁইয়ার। গতকাল মঙ্গলবার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে বসে এভাবে তিনি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছিলেন।
সার্জেন্ট হেলাল ও সাজেন্ট আলাউদ্দিনের কারণেই ২০০৪ সালে পয়লা এপ্রিল চট্টগ্রামে আটক হয়েছিল দশ ট্রাক অস্ত্রের চালান। এ অস্ত্র চালান আটকের ১০ বছর পর পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা কাজের স্বীকৃর্তি স্বরূপ পাচ্ছেন পদক। আগামী ৬ মার্চ বৃহস্পতিবার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশ সপ্তাহ-২০১৪’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশের এই দুই সার্জেন্টসহ ১০৫ জনকে (অসীম সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও প্রশংসনীয় অবদানের জন্য র্যাব ও পুলিশ সদস্য) পদক প্রদান করবেন। সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
সার্জেন্ট হেলাল উদ্দিন বর্তমানে সিএমপিতে কর্মরত। অপর দিকে সার্জেন্ট আলাউদ্দিন পদোন্নতি পেয়েছেন (পরিদর্শক)। তিনি কর্মরত এসবিএন-১ এ (ঢাকা)। অস্ত্র আটকের ঘটনায় সেই সময় ক্ষমতাসীন চারদলীয় জোট সরকারের রোষানলে পড়েছিলেন পুলিশের এই দুই সার্জেন্ট। তাদের উল্টো অস্ত্র মামলায় আসামি করে পাঠানো হয় জেলে। ২৮ মাস কারাবাস শেষে মুক্তি মেলে। আর ২০১১ সালের ৮ আগস্ট ফিরে পান হারানো চাকরি।
সুখ-দুঃখ জড়ানো পদক
বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ইতিহাসে এ বছরের পদক তালিকাই সবচেয়ে দীর্ঘ। এর মধ্যে মরণোত্তর পদক পাচ্ছেন পুলিশের ১৬ জন। যাদের অধিকাংশই জামায়াত শিবিরের সহিংসতার শিকার হয়ে মারা গেছেন। তাদের স্বজনরা পদক গ্রহণ করবেন। পদক তালিকায় রয়েছেন হেফাজতের কর্মসূচির সময় পল্টনে ট্রাফিক অফিসে অগ্নিদগ্ধ কনস্টেবল পিয়ারুল ইসলাম। আগুনে তার শরীরের সিংগভাগ পুড়ে যায়। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে প্রাণ রক্ষা পায় তার। উন্নত চিকিত্সার জন্য পাঠানো হয়েছিল সিঙ্গাপুরে। বর্তমানে তিনি পদোন্নতি পেয়ে (এএসআই) র্যাবে কর্মরত রয়েছেন। পদক প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি রীতিমত কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, অগ্নিদগ্ধ হবার পর মৃত্যুর দিন গুনছিলাম। প্রধানমন্ত্রী ও পুলিশ প্রধানসহ (আইজিপি) সবার ভালোবাসার জোরে জীবন ফিরে পেয়েছি। আমার প্রাপ্ত পদক তাদেরই উত্সর্গ করছি।
এছাড়া পদক তালিকায় রয়েছেন ডিবি এসি মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, ডিবি এসি একেএম মাহবুবুর রহমান, এসি জুয়েল রানা, ডিবির ইন্সপেক্টর মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার ওসি মোঃ ফিরোজ তালুকদার, এডিসি (ওয়ারী) এসএম মেহেদী হাসান, এডিসি (সচিবালয়) মশিউর রহমান, এসি মতিঝিল সাইফুর রহমান, এসপি রাজবাড়ী রেজাউল হক, ওসি শাহবাগ সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
চার ক্যাটাগরিতে পদক দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম), বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সেবা) ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) ।