জুনের আগে আন্দোলন করবে না বিএনপি

দল গোছানো এবং সার্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিএনপি আগামী জুনের আগে আন্দোলনের মাঠে নামবে না। এই মুহূর্তে মাঠ স্তরে উপজেলা নির্বাচনের ব্যস্ততা আর ৫ জানুয়ারির আন্দোলনের ’ধকল’ কাটিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা চলছে। আর কেন্দ্রে চলছে দল গোছানোর নানা পরিকল্পনা। পাশাপাশি পরাশক্তিদের ’সরাসরি’ সমর্থন আদায়ে বহুমাত্রিক লবিং চলছে দেশে-বিদেশে। জানা গেছে, বেগম জিয়া দল এবং অঙ্গ দলের চলমান কমিটি নিয়ে আন্দোলনে নামবেন না। তিনি নিজেই রাজবাড়ীর জনসভায় বলেছেন, ’দল গোছাবো, অনেকদিন দল গোছানো হয়নি। দল গুছিয়ে তারপর আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে।” দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, সরকারের ভাবমূর্তির ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনের আন্দোলন কর্মসূচি। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চাপে রেখে দাবি আদায় করতে চায় বিএনপি। আগামী জুন-জুলাই পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করবেন। তারপর প্রয়োজন মতো দিবেন কঠোর কর্মসূচি। আগামী দুই মাস খেলাধুলার বড় ইভেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে এখন চলছে এশিয়া কাপ। ১৬ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল টি-২০ বিশ্বকাপ হবে। এপ্রিলে রয়েছে এসএসসি পরীক্ষা। উপজেলা নির্বাচন চলবে মে মাসের ৫ তারিখ অবধি। জুন মাসে রয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল। চলবে মাসব্যাপী। যা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে তরুণরা। এছাড়াও এ যাবত্ যত গুম-খুন হয়েছে তাদের পরিবার নিয়ে ঢাকায় আন্তর্জাতিক কনভেনশন করবে বিএনপি। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র মতে, খালেদা জিয়া বেশ কয়েকটি পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সরকার হঠানোর আন্দোলন নিয়ে তাদের মতামত-পরামর্শ শুনেছেন। তিনি বলেছেন, নভেম্বরের পর আর এ সরকার থাকবে না। সরকারকে বিদায় নিতে হবে। এদিকে ১ মার্চ থেকে তিনি জেলা সফর শুরু করেছেন। প্রথমে গেছেন রাজবাড়ী। এরপর অন্যান্য জেলায় যাবেন। ঢাকা মহানগর বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিকদল পুনর্গঠনে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ এই দলগুলো আন্দোলনে বড় ভূমিকা রাখে। সংশ্লিষ্ট সব নেতা জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরই তিনি ওই কমিটিগুলো করবেন। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বললেন, দল গোছানো ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির জন্য সময় প্রয়োজন। এরমধ্যে সরকার নির্বাচনের পথে না এলে আবার আন্দোলন শুরু হবে এবং সরকারকে বাধ্য করা হবে। এ জন্য আমরা ছয় মাসের একটি টার্গেট ঠিক করেছি। তিনি বলেন, সরকারকে বলব যত দ্রুত সম্ভব সংলাপে বসে একাদশ সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে। তা না হলে আমাদের আন্দোলনে তাদের পতন ঘটবে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে মাঠ নেতাদের ওপর একটি ঝড় বয়ে গেছে। তাদের সুস্থির হতে দিতে হবে। দলের চেয়ারপার্সন বর্তমান কমিটি দিয়ে আন্দোলনে রাজি নন। নতুন নেতৃত্ব দরকার। স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের মনোভাবও দেখতে চাই আমরা। আমরা আশা করি, সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। নির্বাচনে জনগণ সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বলেন, আমরা আরও কিছু দিন সময় নিতে চাই। আমাদের দল গোছানোর প্রয়োজন আছে। বাস্তবতাকে মেনেই আমাদের আন্দোলনে নামতে হবে।