এবার পেশাদারিত্বের বাঁধনে

সবসময় একটু হিসেব করে সব কাজ করতে ভালোবাসেন লাক্সতারকা আজমেরী হক বাঁধন। মাঝে সংসারের প্রয়োজনে কিছুটা সময় বিরতি নিলেও বর্তমানে অভিনয়কে ঘিরেই তার ব্যস্ততা। এই গুণী অভিনেত্রীর বর্তমান ও আগামীর ভাবনার কথা জানাচ্ছেন অজেয় চৌধুরী অভিনয়ের শুরু থেকে নিজের একটা দর্শন মেনে পথ চলছেন তিনি। আর তা হলো অনেক বেশি কাজ করার চেয়ে একটু কম কাজ করবেন। সংখ্যার চেয়ে তিনি কাজের মানের দিকে বেশি নজর দেন। এর ফলে কাজ নিয়ে কখনও তার মাঝে কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। মাঝে বিয়ে ও মা হওয়ার কারণে অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে ছিলেন বাঁধন। এখন আবার এ মাধ্যমে তার নিয়মিত পথচলা শুরু হয়েছে। বাঁধনের ভাষ্যে, ‘আমি কখনও এমনটি চাইনি যে, আমাকে অনেক অনেক নাটকে অভিনয় করতে হবে, সবসময় টিভিপর্দায় নিজেকে দেখতে হবে—এই ভাবনা আমাকে কখনও তাড়া করেনি। আমি আসলে নিজেকে দেখতে চেয়েছি ভালো কাজের একজন অভিনেত্রী হিসেবে।’ সময়ের বিবর্তনে কাজ নিয়ে এখন নতুন নতুন ভাবনার ডালপালা প্রসারিত হচ্ছে তার মনে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এখন আমার কাজ নিয়ে আরও সচেতন হওয়া উচিত। আর আমি এখন তাই করছি। ক্যারিয়ারের এই সময়ে এসে আমি আমার চরিত্রে কোনো রিপিটেশন চাই না। এখন একটি স্ক্রিপ্ট পাওয়ার পর দেখি সেখানে নিজের অভিনয়ের কতটা সুযোগ রয়েছে। এখন আমি আসলে একটু ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রই খুঁজি। এই সময়ে এসে গতানুগতিক কাজ করতে কোনো ইচ্ছেই আর করে না। আমার মনে হয়, যারা আমার অভিনয় পছন্দ করেন, তারাও নিশ্চয় চান, আমি নতুন নতুন চরিত্রে তাদের সামনে হাজির হই। আমি যেহেতু দর্শকদের জন্য কাজ করি, নিজের আনন্দ থেকে কাজ করি—তাই দর্শকদের নতুন কিছু দেওয়ার চেষ্টাটা এখন থেকে আরও জোরালো হবে।’ বর্তমানে বাঁধন অভিনীত ধারাবাহিক নাটক কচি খন্দকার পরিচালিত ‘ইয়েস বস নো বস’ এনটিভিতে প্রচার হচ্ছে। বাঁধন এখন অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত আছেন ইদ্রিস হায়দারের রচনা ও পরিচালনায় ধারাবাহিক নাটক ‘পালঙ্ক’ নিয়ে। এ প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন, ‘এখানে আমার চরিত্রটি বেশ মজার। বলা যায় এই চরিত্রে একটা নাটকীয়তা আছে। এর মাধ্যমে দর্শকরা নতুন এক বাঁধনকে খুঁজে পাবেন বলে আমার বিশ্বাস। আর ‘পালঙ্ক’ আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম একটি নাটক হতে যাচ্ছে।’ এছাড়াও তার হাতে রয়েছে আরও কয়েকটি নাটকের কাজ। কাজ নিয়ে স্বপ্ন পূরণ না হলে তা কীভাবে মেনে নেন? জবাবে বাঁধন তার স্বভাবসুলভ হাসি উপহার দিয়ে বলেন, ‘সব কাজেই যে অতৃপ্তি থাকে তা নয়। কিছু কিছু নাটকে কাজ করে আত্মতৃপ্তি পেয়েছি। কোনো কাজ করতে গিয়ে যদি বুঝতে পারি যে এখানে আত্মতৃপ্তির জায়গা নেই, তখন ওভারঅল কাজ করে চলে আসি। আর অতৃপ্তির জায়গাটা আমার কিছুটা বেশি, কারণ কাজ নিয়ে আমার স্বপ্নের জায়গাটা অন্যরকম। যে রকম স্বপ্ন নিয়ে কাজ করতে চাই, তা হয়তো নানা কারণে পারি না।’ আগামীর ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপাতত অভিনয় নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকলেও শিগগিরই আমার ডেন্টিস্ট পেশাকে প্রাধান্য দিতে চাই। সিদ্ধান্ত নিয়েছি গুলশান-২ নম্বরে একটি চেম্বার খোলার। আমি এবং আমার বান্ধবী যৌথভাবে চেম্বারটি খুলতে যাচ্ছি। অনেক আগেই এটি চালু করার কথা ছিল। কিন্তু সাংসারিক ব্যস্ততার কারণে পারিনি। এখন নিজেকে অনেকটা গুছিয়ে নিয়েছি। ওই চেম্বারে আমি নিজেও বসব।’ ডেন্টিস্ট পেশায় প্রবেশের পর অভিনয় ছেড়ে দিবেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে বাঁধন বলেন, ‘অভিনয় ছাড়ার ইচ্ছা নেই। তবে চিকিত্সা পেশায় প্রবেশের পর খুব বেশি অভিনয় করব না। শুধু বিশেষ দিবস কিংবা ভালো মানের নাটকগুলোতেই অভিনয় করতে চাই।’