মৌলভীবাজারে ৬৯২ স্কুলের স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন সম্পন্ন
শৃঙ্খলা ও আনন্দে ভোটের উত্সব
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০১৪, ২১:০৮
শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হলো নির্বাচন। নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন ভোটাররা। নেই জাল ভোট বা কারচুপির অভিযোগ, নেই নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা। পাল্টা-পাল্টি অভিযোগও নেই প্রার্থীদের। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে এমন নির্বাচন কল্পনাও করতে পারে না সাধারণ জনগণ। অথচ সেটাই করে দেখাল শিশুরা।
গতকাল বুধবার তৃতীয়বারের মতো স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে মৌলভীবাজারের ৬৯২টি বিদ্যালয়ে। সকাল আটটা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। তারপর গণনা ও ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
এই নির্বাচন প্রসঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চানন বালা ইত্তেফাককে বলেন, ‘এই নির্বাচন শিশুদের গণতন্ত্র শেখাচ্ছে। শিশুদের মাঝে নেতৃত্ব গড়ে উঠছে।’ তিনি নিজে বড়লেখা, জুড়ি, রাজনগর উপজেলার বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ঘুরে দেখেছেন।
যেভাবে সম্পন্ন হলো নির্বাচন: নির্বাচনী আইন অনুযায়ী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা যৌথভাবে নির্বাচন কমিশনার মনোনয়ন করেন। নির্বাচন কমিশনার প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেন। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পরামর্শে নির্বাচন কমিশনার তফসিল ঘোষণা করেন। প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থীরা ভোটারদের নিকট ভোট প্রার্থনা করেন। তবে এখানে পোস্টারিং বা মাইকিংয়ের ব্যবস্থা ছিল না, ছিল না প্রতীকও। তারপরও ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই নির্বাচন ঘিরে ছিল প্রবল উত্সাহ-উদ্দীপনা।
সরেজমিনে নির্বাচন কেন্দ্রে: নির্বাচন নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলো ছিল উত্সবমুখর। রাজনগর উপজেলার দক্ষিণ ঘরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর একটার দিকে উপস্থিত হয়ে দেখা যায় একটি কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত পিসাইডিং কর্মকর্তা (শিক্ষার্থী) তার পোলিং এজেন্টদের নিয়ে গোল হয়ে বসে ভোট গণনায় ব্যস্ত। বাইরে থেকে ভোটার ও প্রার্থীরা উঁকি-ঝুঁকি মারছেন। সবকিছু তদারকি করছেন শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজনগর উপজেলা প্রাইমারি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম বলেন, এটাই গণতন্ত্রের প্রথম পাঠ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের নেতা নির্বাচন করে। তাদের কোন অভিযোগ-অনুযোগ নেই নির্বাচন নিয়ে।
রাজনগর উপজেলার কদমহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় সেখানে ভোট গ্রহণ চলছে। প্রধান শিক্ষক ইসরাত জাহান জানান, শিক্ষার্থীরা এই নির্বাচনের মাধ্যমে ৭ জন নেতা নির্বাচন করে। এরা বিদ্যালয়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন-শৃঙ্খলা, সংস্কৃতি বিষয়ে দায়িত্ব পালন করে।