৩৪তম বিসিএস

লিখিত পরীক্ষার শেষ সময়ের প্রস্তুতি

বিসিএস পরীক্ষা মূলত স্বল্পপ্রস্তুতির কোনো পরীক্ষা নয়। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি নিয়েই ভালো করা সম্ভব এই পরীক্ষায়। ২৪ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষার লিখিত পরীক্ষার মূল প্রস্তুতি নিশ্চয়ই এতদিন শেষ। তবু শেষ সময়ের জন্য এই প্রস্তুতির বিশেষ কিছু দিক তুলে ধরা হলো। লিখিত পরীক্ষার বিষয় যারা সাধারণ ক্যাডারে আবেদন করেছেন, তাদের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে নয়টি পরীক্ষায়। বাংলা দুই পত্রে ২০০, ইংরেজি দুই পত্রে ২০০, বাংলাদেশ বিষয়ক সাধারণ জ্ঞানে দুই পত্রে ২০০, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সাধারণ জ্ঞানে এক পত্রে ১০০, গণিত ও মানসিক দক্ষতায় এক পত্রে ১০০ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যারা প্রফেশনাল বা টেকনিক্যাল ক্যাডারে আবেদন করেছেন, তাদের আবার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ২০০ নম্বরের পরীক্ষাতেও অংশ নিতে হবে। শুধু প্রফেশনাল ক্যাডারে আবেদনকারীদের জন্য অবশ্য বাংলা দ্বিতীয় পত্রের ১০০ নম্বরে অংশ নিতে হবে না। লিখিত পরীক্ষায় সব বিষয়ে গড়ে ৫০ নম্বর পেলেই পাস করা যাবে। তবে কোনো বিষয়ে ২৫ নম্বরের নিচে পেলে সেই বিষয়ে কোনো নম্বর পরীক্ষার্থী পায়নি বলে বিবেচনা করা হবে। গড়ে ৫০ নম্বরে পাস হলেও মনে রাখতে হবে, ভালো ক্যাডার পেতে হলে লিখিত পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার বিকল্প নেই। গণিত বিষয় হিসেবে গণিত ও মানসিক দক্ষতা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে পরীক্ষায় ভালো নম্বর অর্জন করা সম্ভব। গণিত পরীক্ষার সবচেয়ে বড় সুবিধাটি হচ্ছে, সঠিক উত্তর করতে পারলে ৫০ নম্বরের ৫০ নম্বরই পাবেন। আর বিসিএস পরীক্ষায় যে ধরনের গণিত আসে, সেগুলো সাধারণত অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণীর সমমানের। তাই গণিত চর্চায় নজর দিন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদের এসএসসি বা এইচসিতে বিজ্ঞান বিষয় নেই, তারা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ১০০ নম্বর নিয়ে খুব চিন্তায় থাকেন। তবে নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই আপনাকে যথেষ্ট সাহায্য করে থাকে। আর বিজ্ঞান বিষয়ে যতটা না বেশি টেকনিক্যাল বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তার চেয়ে বেশি দৈনন্দিন বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি অংশে কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট বিষয়ে অনেক প্রশ্ন থাকে। এসব অংশের উত্তর ভালো প্রস্তুতির মাধ্যমে সঠিকভাবে দিতে পারলে প্রতিটি প্রশ্নে ৯০ শতাংশ বা অনেক ক্ষেত্রে শতভাগ নম্বর পাওয়া সম্ভব। ইংরেজি আমাদের দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি ভীতিকর বিষয়ের নাম ইংরেজি। এই বিষয়ে প্রায় সব ধরনের ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদেরই কিছুটা দুর্বলতা থেকে যায়। কিন্তু যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারলে ইংরেজিতে খুব ভালো ফলাফল করা সম্ভব। এর জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী হতে পারে ইংরেজি প্রথম পত্রের গ্রামার অংশ, যাতে পুরো নম্বরই পাওয়া যায়। আর বাকি সবটুকুর জন্য ফ্রিহ্যান্ড রাইটিংয়ে দক্ষতার বিকল্প নেই। অ্যামপ্লিফিকেশন, লেটার রাইটিং, আর্টিকেল রাইটিং বা রচনার জন্য বিষয়ভিত্তিক জানাশোনা স্পষ্ট থাকলে লেখার অভ্যাসই এসব অংশে ভালো নম্বর তুলতে সহায়তা করে। বাংলা বাংলার ক্ষেত্রে ব্যাকরণ এবং সাহিত্যে দখল থাকলে ব্যাকরণ অংশে পূর্ণাঙ্গ নম্বর এবং সাহিত্যের অংশে যে ৩০ নম্বরের ছোট প্রশ্ন থাকে, তাতে অনেক ভালো নম্বর পাওয়া যায়। বাংলাতে দুইটি রচনায় প্রতিটির জন্য ৪০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। তাই এই রচনাগুলোর জন্য ভালো প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। তবে সারাংশ এবং ভাব-সম্প্রসারণের জন্য খুব অল্প কথায় পূর্ণ ভাবটি প্রকাশ করার ক্ষমতা আয়ত্ত্ব করতে হবে। কেননা ভাব-সম্প্রসারণ মাত্র ২০টি বাক্যে সম্পন্ন করতে হয়। এ ছাড়া ইংরেজি-বাংলা অনুবাদের জন্য চর্চার বিকল্প নেই। সাধারণ জ্ঞান সাধারণ জ্ঞানের বাংলাদেশ বিষয়াবলীতে প্রথম পত্রে দেশের ইতিহাস ও ভৌগলিক অবস্থান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা এবং সাম্প্রতিক বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। আর দ্বিতীয় পত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয় প্রশাসনিক কাঠামো, পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে আমাদের সম্পর্কের বিষয়গুলোতে। আর এই পত্রে সংবিধান থেকেও প্রশ্ন হয়ে থাকে। তাই সংবিধানের দিকে নজর রাখতেই হবে। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতে বিশ্ব রাজনীতি এবং অর্থনীতির আলোচিত ঘটনা, সাম্প্রতিক ঘটনাবলী, বাংলাদেশের সাথে বিশ্ব রাজনীতি এবং অর্থনীতির সম্পর্ক, কূটনীতি প্রভৃতি বিষয়েই জোর দেওয়া হয়। তাই দৈনিক পত্রিকা মনোযোগ দিয়ে পড়ে নেওয়া ভালো। পরীক্ষার হলে সময় ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর খাতার সৌন্দর্যও অবহেলার বিষয় নয়। আর প্রতিটি প্রশ্নেই যথাসম্ভব গুছিয়ে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে উত্তর দেওয়াই শ্রেয়। কেবল উত্তরের আয়তন বাড়ানোর জন্য অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারণা করা উত্তরের মানকেই কেবল ক্ষুণ্ন করবে। ০০০০০০০০০০০০০০০০ মো. আহসান হাবীব সহকারি পুলিশ কমিশনার ৩০তম বিসিএস ক্যাডার লিখিত পরীক্ষার জন্য কেবল ভালো প্রস্তুতি থাকলেই হয় না, পরীক্ষার হলেও সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিটি পরীক্ষায় সবগুলো প্রশ্নের উত্তর করার চেষ্টা করা উচিত। আর বিশেষ করে জোর দিতে সেই বিষয়গুলোর উপর, যেগুলোতে পূর্ণ নম্বর পাওয়া যায়। এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে গণিত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বাংলা ও ইংরেজির ব্যকরণ অংশ। এ ছাড়া সাধারণ জ্ঞানের বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতে ছোট ছোট যেসব প্রশ্ন থাকে, এগুলোতেও ভালো নম্বর পাওয়া যায়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বড় প্রশ্নের উত্তরের আয়তন। এসব প্রশ্নের উত্তরে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো উল্লেখ করতে পারলে প্রশ্নের উত্তরের আয়তন অযথা বড় না করাই ভালো। তাতে করে হিতে বিপরীত হওয়ার আশংকা থাকে। অল্প কথায় গুছিয়ে তথ্য সংযোজন করে উত্তর লিখলে সেটাই ভালো নম্বর পেতে অনেক বেশি সহায়তা করবে।