সেরা অধিনায়কত্বও হয়েছে

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পাওয়ার দিনটা হতে পারতো শুধু আনন্দের। তার সতীর্থরা সেভাবেই লড়ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরির স্বাদটা তেঁতো হয়ে গেছে তার দলের পরাজয়ে। তারপরও এনামুল হক বিজয় বলছেন, দলের উন্নতি হচ্ছে। দলে সবই ঠিক চলছে, শুধু জয়টাই আসছে না—তেমনই মনে করছেন বাংলাদেশের এই ওপেনার। গতকাল সারাদিনই বিশ্রামে কাটানো দলের প্রতিনিধি হয়ে কথা বলেছেন এনামুল হক বিজয়— দলের অবস্থাটা আসলে কেমন এখন? একদিকে উজ্জীবিত ব্যাটিং, আরেক দিকে জয় হাতছাড়া হওয়া... দলের অবস্থা আগেও ভাল ছিল, এখনও ভাল আছে। নির্দিষ্ট করে এটা বলব না যে, এই ম্যাচের পর আমরা আরো উজ্জীবিত হয়ে গেছি। আমরা আগেও ভাল খেলার চেষ্টা করেছি, এই ম্যাচেও একই চেষ্টা ছিল। আগের ম্যাচগুলোতে যা পাইনি এ ম্যাচে তা পেয়েছি। এটাই পার্থক্য। আপনার নিজের সেঞ্চুরির অনুভূতিটা কী? সব ব্যাটসম্যানের জন্যই সেঞ্চুরিটা স্বপ্ন। আমারও তেমনটা ছিল। পাকিস্তানের মতো বোলিং শক্তির বিপক্ষে এমন একটা সেঞ্চুরি করা অনেক কিছু। আমার চিন্তা ছিল সেঞ্চুরিটা হয়ত দলকে জয় এনে দেবে। কিন্তু এমন না হওয়াতে অবশ্যই খারাপ লেগেছে। আমার সেঞ্চুরিতে দল জিতলে বেশি ভাল লাগত। ব্যাটিংয়ে যেমন পরিকল্পনা ছিল তা এই ম্যাচে ভালভাবে করে দেখাতে পেরেছেন? পরিকল্পনা ছিল, নতুন বলে ওপেনারদের সারভাইভ করা। নতুন বল সারভাইভ করতে পারলে ব্যাটিং করা সহজ হয়ে যায়। এদিকটায় আগের ম্যাচগুলোতে সফল হইনি। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই পরিকল্পনায় সফল হয়েছি। আসলে এমনই হওয়া উচিত। আমরাও আশা করি প্রতি ম্যাচে এভাবে ব্যাটিং করবো। হাফিজ ও আজমলের ব্যাপারে কোন আলাদা পরিকল্পনা ছিল কিনা? নতুন বলে হাফিজ সব সময় উইকেট পেয়ে যায়। তাই স্ট্রাইক বদলে খেলার পরিকল্পনা ছিল। আর আজমল তো বিশ্বের সেরা স্পিনার। তাকে খেলতে আমার একটু ভয় হচ্ছিল। তাই দেখে খেলেছি। পরে তো সাকিব ও মুশফিক তাদের বলে অসাধারণ খেলেছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পরিকল্পনাটা কী? প্রতি ম্যাচেই আমরা জেতার চেষ্টা করি। কোন দিন সফল হই; কোনদিন হতে পারি না। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি পেয়েছি তাই বলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পেয়ে যাব এমন না। চেষ্টা আমরা প্রতি ম্যাচেই করবো। কিন্তু কখনও হয় আবার কখনও হয়ে ওঠে না। আজও জয়ের লক্ষ্যেই নামবো, আশাকরি ফল আমাদের দিকে থাকবে। শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে কোন টিম মিটিং হয়েছে কিনা? ওদের সঙ্গে তিনটি ওয়ানডে খেলেছি, টি-টোয়েন্টি খেলেছি। আসলে আমরা জানি মালিঙ্গা কি করতে পারে, সাঙ্গাকার কি করতে পারে। ওরা অবশ্যই সবদিক থেকে এগিয়ে। তাই আমরা নিজেদের ভুল নিয়ে আলোচনা করছি। পাকিস্তানের বিপক্ষে আমাদের বোলিং-ফিল্ডিংয়ে যেমন ভুল হয়েছে সেগুলো আজ যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার চেষ্টা করছি। ব্যাটিংয়ের মতো সব ঠিক থাকলে অবশ্যই শ্রীলঙ্কার সাথে ভাল কিছু হবে। নিজে অধিনায়ক হলে পাকিস্তানের বিপক্ষে ফিল্ডিংয়ের সময় কি পরিকল্পনা করতেন? প্রথমত আমি অধিনায়ক হিসেবে কখনো কল্পনাই করি না নিজেকে। আমি মনে করি দেশ সেরা অধিনায়কের নেতৃত্বে খেলছি। আমি অত্যন্ত ভাগ্যবান। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে মুশফিকের কোন ভুল ছিল না। অনেকেই হয়ত মনে করে ফিল্ডিংয়ের সময় অধিনায়ক হলে অন্য কিছু করতে পারতাম। তবে আমি মনে করি দলের জন্য যা ভাল, মুশফিক তাই করেছেন। জেতা ম্যাচ হেরে যাওয়ায় কোন উল্টো ইমপ্যাক্ট পড়েছে কিনা? আসলে ম্যাচ জেতার অভ্যাস গড়ে তোলাটা অনেক বড় ব্যাপার। সেই অভিজ্ঞতার অভাব এখনো আমাদের আছে। তাই হয়ত জয়ের সামনে থেকেও বার বার হেরে আসছি। এখানে বিপরীত প্রভাব পড়ার কিছু নেই। এখান থেকেও অনেক কিছু শেখার আছে। আমি এই বয়সে যে ভুলগুলো দেখছি আরো কিছুদিন পর সেগুলো আর থাকবে না। তখন অনেক ক্লোজ ম্যাচ সহজে জিততে পারবো।