প্রতারণার অভিযোগে সহযোগীসহ ভুয়া মেজর গ্রেফতার

রাজধানীর আদাবরে জামাতাসহ আবু জাফর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবি বলছে, প্রতারণার অভিযোগে তাদের দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি জমি আত্মসাত্ করতে একটি চক্র পুলিশকে দিয়ে তাদের গ্রেফতার করিয়েছে। পুলিশের দাবি আটককৃত দুইজনের মধ্যে একজন ভুয়া মেজর। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মাহমুদা আফরোজ লাকী গতকাল ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, আবু জাফর নৌ-বাহিনী, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এবং সেনাবাহিনীতে চাকরি দেয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিলেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তবে আবু জাফরের ছেলে সৈয়দ শামসুল আরেফিন অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের আদাবরের ৯ নম্বর রোডের ৭২৯/এ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় যান। এদের মধ্যে জহির ও মফিজুল নামের দু’জন ডিবির এসআই পরিচয় দেন। তাদের সঙ্গে একজন নারীও ছিলেন। ডিবি পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তিরা জানান, ২০১৩ সালের একটি মামলায় সৈয়দ আবু জাফরকে গ্রেফতার করা হবে। এ সময় শামসুল আরেফিন গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখতে চাইলে জহির তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বাসা তছনছ করে জমির দলিল, দুই লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন সেট নিয়ে নেন। চলে যাওয়ার সময় তারা আবু জাফর ও তার জামাতা সৈয়দ মাসুম আল হোসেনকে ধরে নিয়ে যান। শামসুল আরেফিন আরও অভিযোগ করেন, এরপর রাত তিনটার দিকে ওই ডিবি কর্মকর্তারা আবারও তাদের বাসায় যান। সে সময় বাসার সামনে গণমাধ্যমের কয়েকজন কর্মী উপস্থিত থাকায় তারা দ্রুত আবু জাফরের স্ত্রী শিল্পী আক্তারকে ধরে নিয়ে যান। গতকাল বুধবার ভোর ছয়টার দিকে এসআই জহির তাকে ফোন করে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে যেতে বলেন। টাকা নিয়ে গেলে তার বাবা, মা ও দুলাভাইকে ছেড়ে দেয়া হবে বলেও জানানো হয়। শামসুল আরেফিন দাবি করেন, গুলশান ২ নম্বর এলাকায় তাদের প্রায় ২২ কাঠা জমি আছে। যার বর্তমান মূল্য প্রায় ২১০ কোটি টাকা। এই জমি হাতিয়ে নিতে রাজনৈতিক নেতারা তাদের চাপ দিয়ে আসছিলেন। এসব কারণে তার বাবা-মা ও দুলাভাইকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বুধবার সকালে আদাবর থানায় এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে তা নেয়নি পুলিশ। তবে আটককৃত জাফর ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, ‘তারা কয়েকজন বন্ধু মিলে গুলশানের জমিটি ক্রয়ের জন্য ৬০ লাখের মতো টাকা দিয়েছেন, এখনো দলিল হয়নি।’ তিনি বলেন, জমিটি আমি একা কিনিনি। গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মাহমুদা আফরোজ লাকী বলেন, আবু জাফর নিজেকে মেজর পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছে। আসলে তিনি মেজর নন। তিনি সেনাবাহিনীতে হাবিলদার পদে চাকরি করতেন। ১৯৯১ সালে চাকরিচ্যুত হন। এরপর থেকেই বেকার যুবকদের কাছ থেকে বিভিন্ন বাহিনীতে চাকরি দেয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিতেন। এজন্য গ্রামের যুবকদের টার্গেট করা হতো। এই কাজে তাকে সহায়তা করে জামাতা। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তার এই প্রতারণা করার কথা ডিবি পুলিশ জানতে পারে। সর্বশেষ বিজিবিতে কর্মরত একজন কর্মকর্তা তাদের এই বিষয়টি দেখার অনুরোধ করেছেন। মাহমুদা আফরোজ লাকী বলেন, ১৩ জনের কাছ থেকে আমরা এখন পর্যন্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ পেয়েছি। এর মধ্যে দু’জন বাদী উপস্থিত রয়েছেন। এদের একজনের নাম এনামুল হাসান। তার গ্রামের বাড়ি যশোরের কেশবপুর। তাকে নৌ-বাহিনীতে চাকরি দেয়ার কথা বলে দুই দফায় সোয়া চার লাখ টাকা নিয়েছে এই ভুয়া মেজর। অপর অভিযোগকারীর নাম সাইদুল ইসলাম। তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের মনোহরপুর। তাকে বিজিবিতে চাকরি দেয়ার কথা বলে ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়েছে। এরা দু’জনেই তাদের নিজ নিজ থানায় মামলা করেছেন। তাদের ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়েছিল আবু জাফর। তিনি আরো জানান, এছাড়াও প্রতারকচক্রটি পুলিশের বদলি ও পদোন্নতির কথা বলে প্রতারণা করার চেষ্টা করেছে। সহকারী পুলিশ কমিশনার বাসা থেকে টাকা ও দলিলপত্র আনা ও পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে বলেন, আমরা তার বাসা থেকে কেবল প্রতারণার কাজে ব্যবহূত কাগজপত্রই এনেছি। তিনি আরো জানান, তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে আমরা গ্রেফতার বা আটক কোনটাই করিনি। তিনি নিজের ইচ্ছায় এখানে এসেছেন। তিনি চলে যাবেন। তিনি জানান, আটকৃতদের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় একটি মামলা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।