পুনরায় সভাপতি হয়ে কাজী সালাহউদ্দিন

সাফ ফুটবলের শক্তি বৃদ্ধিই লক্ষ্য

কাজী মো. সালাহউদ্দিন দক্ষিণ এশিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) সভাপতি হিসাবে দ্বিতীয় মেয়াদে পুনরায় চার বছরের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর জানিয়েছেন তাদের লক্ষ্য থাকবে এ অঞ্চলের ফুটবল শক্তি আরো বৃদ্ধি করা। তিনি বলেন, ‘সাফ অঞ্চলকে এশিয় পর্যায়ে পৌঁছাতে হলে অনেক ঘাম ঝরাতে হবে। অর্থ একটা বড় ফ্যাক্টর।’ গতকাল ঢাকায় স্থানীয় একটি হোটেলে সাফের কংগ্রেসের পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সালাহউদ্দিন নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি সালাহউদ্দিনই যে সভাপতি হচ্ছেন তা অবশ্য আগেই নিশ্চিত ছিল। কারণ ১৮ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনেও কোনো প্রার্থী আগ্রহ দেখাননি। সাফের মূল লক্ষ্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সাফ ক্লাব কাপ ফুটবলের ব্যাপারে কালকের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে টুর্নামেন্টটি নভেম্বরেই হবে। সদস্য দেশগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন আগামী বছর ২০১৫ সালে সাফে ব্যস্ততা বেশি থাকবে। অনেক টুর্নামেন্ট রয়েছে। ভারতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ রয়েছে। বয়সভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট রয়েছে। তখন সাফ ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা সম্ভব হবে না। তবে টুর্নামেন্টটি কোথায় হবে তা চূড়ান্ত হয়নি। কংগ্রেসে আসা অন্যান্য দেশের ফুটবল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন এটা আলোচনার মাধ্যমে করতে হবে। এখন এর জন্য স্পন্সর খুঁজে বের করবে ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস গ্রুপ। এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা স্পন্সরের ব্যাপারে মুখ খুলতে নারাজ। একটা সময় সাফ শুধু টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। এখন সাফের কার্যক্রম অনেক বেড়েছে। সালাহউদ্দিন বলেছেন, ‘আমরা কোচ, রেফারি, ইন্সট্রাক্টর এবং সাফের ফুটবল দেশুগুলো কিভাবে আরো বেশি উন্নতি করতে পারে তার দিকে নজর রাখছি। এটা সবাই মিলে করতে হবে। আমি সভাপতি বলে আমিই সব করবো এটা মনে করা ঠিক না। ফুটবলে উঠতে হলে শুধু টুর্নামেন্ট আয়োজন করলেই চলবে না। সামগ্রীকভাবে উন্নত করার দরকার আছে।’ পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ ফয়সাল হায়াত সাফ প্রধান কাজী সালাহউদ্দিনের প্রশংসা করে বলেন, তিনি সাফ অঞ্চলের ফুটবল উন্নয়নে যে ভূমিকা রাখা দরকার সেটা ভালোভাবেই করতে পারছেন। তার কমিটমেন্ট আছে। ফুটবলের প্রতি প্যাশন আছে। আমরা তার উপর দায়িত্ব দিয়ে আস্থা রাখতে পারি।’ সাফের সাবেক সভাপতি গনেশ থাপা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয় মিষ্টার সালাহউদ্দিন আমাদের কাছে ফুটবলের গ্রেট লিডার।’ নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারের ঘটনা স্মরণ করে গনেশ থাপা বলেন, ‘আমি তার ফুটবল ক্যারিয়ারের কথা জানি। কতটা ভালো খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম পেশাদার ফুটবল খেলায়াড় ছিলেন। বাফুফের দায়িত্ব নিয়েছেন। সাফের দায়িত্ব পালন করেছেন গত চার বছর। আমরা মনে করছি আগামী চার বছরও ভালোভাবে এই সংগঠনটি পরিচালনা করতে পারবেন তিনি।’ সভাপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, সহ-সভাপতি তিনটি পদের জন্য চার জন প্রার্থী ছিলেন। মালদ্বীপ সহ-সভাপতি হওয়ার জন্য লড়াই করলেও কেবল এক ভোট পায়। সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ভুটান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি দর্জি ইউজেন, শ্রীলংকা ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রনজিত রডরিগো এবং পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সৈয়দ খাদিম আলী শাহ।