২০১৪ বিশ্বকাপের ক্ষণগণনা শুরু

ফুটবলামোদীদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ব্রাজিল

শুরু হয়ে গেলো ২০১৪ বিশ্বকাপের ক্ষণগণনা। রাজসূয়া আসরটি আয়োজনে স্বাগতিক ব্রাজিলের হাতে আছে আর মাত্র ৯৯ দিন। যদিও প্রস্তুতি চূড়ান্ত করার ব্যাপারে এখনো চাপে আছে ব্রাজিল। বিশেষ করে চারটি স্টেডিয়ামের কাজ এখনো শেষ হয়নি। তাছাড়া স্বাগতিক শহরগুলোর অনেকগুলোতেই কাজকর্ম বাকি। এরপরও দেশটির কোচ লুই ফিলিপ স্কোলারি জানিয়েছেন তার দেশ বিশ্বকাপ উপভোগ করতে আসা বিদেশি সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবে। অপরদিকে ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটার বলেছেন, আয়োজন নিয়ে কিছু সমস্যা থাকলেও তার আস্থা আছে ব্রাজিলের উপর। স্কলারি বিশ্বকাপ শুরুর ১০০ দিন আগে গত মঙ্গলবার আয়োজিত ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে এ কথা জানান। ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ী এই কোচ বলেন, ‘ব্রাজিল এমন একটি দেশ যারা সকলকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানাবে।’ এ সময় তার সাথে ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারও উপস্থিত ছিলেন। ১২ জুন ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার খেলাটি দিয়ে এবারের বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলে আসছে। এমনকি বিশ্বকাপের স্থান অন্যত্র সরিয়ে নেয়ারও আওয়াজ উঠেছিল। এখনো কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। এই যেমন অনেকগুলো বিমান বন্দরের উন্নয়ন কাজ এখনো শেষ হয়নি। তাই তিন মাস বাকি থাকতেই বিমান বন্দরগুলোয় ধারণ ক্ষমতার বেশি মানুষ নামছে উঠছে। পাঁচটি স্বাগতিক শহর তো তাদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন বাসের রাস্তা কিংবা পাতাল পরিবহনের মতো কাজ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। ব্রাজিল সব সময়েই জানিয়ে আসছিল যে তারা এ ধরনের বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনে সক্ষম। উদাহরণ হিসেবে দেশটির কর্তৃপক্ষ তাদের রিও ডি জেনিরো কার্নিভালকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করতো। এ বছরের কার্নিভালটি মঙ্গলবার রাতে শেষ হয়েছে। সাম্বা স্কুলগুলো এবারের আসরে ফুটবলকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। সেটা দেখা যায় সাম্বা নর্তকীদের ফুটবলকে ঘিরে কসরত করায়। জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলাররাও এতে অংশ নেন। ফিফা কর্মকর্তারা অবশ্য যেভাবে সব কাজ শেষ মুহূর্তে করা হচ্ছে তাতে সন্তুষ্ট নন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এ নিয়ে স্থানীয় আয়োজকদের সাথে দফায় দফায় বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু সেপ ব্লাটার বলেছেন ব্রাজিলের সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে। তিনি বরং আরেকটু এগিয়ে মত দেন-‘এটা হবে ব্যতিক্রমী এক প্রতিযোগিতার ব্যতিক্রমী ভাল সূচনা।’ তবে স্কলারি বিশ্বাস করেন, সমর্থকদের কাছে ব্রাজিল হবে একটি আদর্শ এবং এর ফলে তারা ভবিষ্যতে ভ্রমণের জন্য দেশটিকে বেছে নেবেন বলেও মত তার। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা জানি কিভাবে বিদেশিদের দেখভাল করতে হয়। আমি মনে করি বিশ্বকাপের পরে তারা ব্রাজিলকে এমন একটি দেশ হিসেবে ভাববে যেখানে বারবার ঘোরা যাবে। কারণ তারা ব্রাজিলকে অনেক বেশি পছন্দ করবে এবং নিশ্চিতভাবে তারা এখানে আবারো আসবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা অতিথিপরায়ন একটি জাতি। আমরা আমাদের অতিথিদের ভালভাবে নিয়ে থাকি। আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে, তারা এখানে অনেক মজা পাবে এবং বৈচিত্র্যের কারণে আমাদের অনেক চমত্কার জিনিস উপভোগ করবে।’ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এবারের বিশ্বকাপে ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামবে। ঘরের মাঠের সমর্থকদের প্রতিদান জয় দিয়েই দিতে চাইবে তারা। তাছাড়া ১৯৫০ সালে আয়োজক দেশ হয়েও বিশ্বকাপ না জেতার আক্ষেপটা এবার পুষিয়ে নিতে মরিয়া থাকবে ব্রাজিল।