এবার বজলুর রহমান হল অবরোধের ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০১৪, ২৩:০০
এবার বেদখল হওয়া শহীদ বজলুর রহমান হল অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বংশালের মালিটোলায় অবস্থিত হলটি আজ বৃহস্পতিবার সকালে অবরোধ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন হল পুনরুদ্ধার ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক শরীফুল ইসলাম। গতকাল বুধবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন শেষে এ ঘোষণা দেন তিনি।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সদরঘাট শাখা অবরোধ করে। তারা ব্যাংকের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। এসময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী সড়কগুলো অবরোধ করে রাখলে সদরঘাট এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে ৮ দফা দাবিতে কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষক সমিতির ব্যানারে তিন শতাধিক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যাংক অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। পরে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে মানববন্ধন করেন তারা।
এর আগে মঙ্গলবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ব্যাংকের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা তিন দিনের মধ্যে ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের শাখাটি স্থানান্তরের সময় বেঁধে দেন।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীতে সমবায় ব্যাংকের একটি জায়গার সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে দখল করার পর ওই জমির প্রবেশ ফটকে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের ব্যানার টানিয়ে দেন।
এদিকে, সমবায়ের সম্পত্তি দখলের বিষয়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা ইত্তেফাককে বলেছেন, সমবায়ের সম্পত্তি দেড় কোটি লোকের সম্পত্তি। এই দেড় কোটি লোক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে একমত। বেদখল হওয়া হলগুলো উদ্ধারে তারাও আন্তরিক। তবে সমবায়ের সম্পত্তি দখল বা স্থাপনা ভাঙচুর করা ঠিক হয়নি। এছাড়া গাড়ি ভাঙচুর করাও ঠিক নয়।
বজলুর রহমান হল: বংশালের ২৬, মালিটোলায় বজলুর রহমান হলটি অবস্থিত। ১৯৮৫ সালে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে হলটি ছেড়ে চলে যায় শিক্ষার্থীরা। পরে জায়গাটিতে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে শহীদ জিয়াউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় বানানো হয়।