এতো ভাংচুর, কেউ অভিযুক্ত নয়!
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০১৪, ২৩:১০
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের (স্বাচিপ) দুই গ্রুপের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় গতকাল বুধবার অপরাহ্নে তদন্ত কমিটি রেজিস্টার অধ্যাপক ডা. সাইদুর রহমান খসরুর কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনের সঙ্গে হামলার ভিডিও ফুটেজের কপিও জমা দেয়া হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে হামলা, ভাংচুর ও ডিন লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় জড়িত কাউকেই দোষি সাব্যস্ত করা হয়নি। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হামলাকারী কাউকেই ভিডিও ফুটেজ দেখে কিংবা তদন্তে শনাক্ত করতে পারেননি। তারা ভিডিও ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে ওই ঘটনার প্রতিবাদে গতকালও মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দন্ত বিভাগে চিকিত্সা সেবা বন্ধ ছিল। কয়েকজন শিক্ষক বলেছেন, তদন্ত কমিটি একটা দায়সারা তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত জানান, আজ বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জড়িত যেই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না বলে তিনি জানান।
মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টলে ওয়েলফেয়ার কমিটি গঠন নিয়ে গত সোমবার স্বাচিপের দুই গ্রুপের মধ্যে ওই হামলা-পাল্টা হামলা, ভাংচুর ও লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে। ওই দিন এক গ্রুপ হোস্টেল প্রভোস্ট ও দন্ত অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. আলী আজগর মোড়লের কক্ষে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। ওই সময় অধ্যাপক আলী আজগর মোড়লকে লাঞ্ছিত করে। এই ঘটনার পরপরই স্বাচিপের অপর গ্রুপ প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ’র অফিস কক্ষে হামলা চালায়। হামলাকারী বিভিন্ন কায়দায় দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা করে। ভিতরে প্রবেশ করতে না পেরে প্রো-ভিসির অফিস কক্ষের সামনে ফুলের টব ভাংচুর করে। হামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের একটি গ্রুপও অংশগ্রহণ করে। ওই হামলার ঘটনা তদন্তে ভিসি তাত্ক্ষণিক তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির সভাপতি ছিলেন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মঈনুজ্জামান।
এদিকে হামলা, ভাংচুর ও শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে গতকালও মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দন্ত বিভাগের প্রধান গেইটে তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়। রোগীরা বিনাচিকিত্সায় ফেরত যান। বিভাগের চিকিত্সকরা জানান, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি না নেয়া পর্যন্ত তাদের এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। স্বাচিপের দুই গ্রুপ গতকালও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ভিসি অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্তের সঙ্গে শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই বৈঠকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হবে। একজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার ঘটনা শিক্ষক সমাজ মেনে নেবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সংশোধনী
গতকাল দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে হামলা বিষয়ক সংবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের নাম অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খানের স্থলে ভুলবশত অধ্যাপক ডা. শরফুদ্দিন ছাপা হয়েছে। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দু:খিত।