নারীকে অমর্যাদা করার প্রবণতা বদলাতে হবে :রাষ্ট্রপতি
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০১৪, ২৩:১১
বিয়ের পর স্বামীর নামের সঙ্গে মিলিয়ে স্ত্রীর পরিচয় নির্ধারণ করার সমালোচনা করলেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, নারীকে অমর্যাদা করার প্রবণতা সব ক্ষেত্রে বদলাতে হবে। গতকাল বুধবার ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মর্যাদায় গড়ি সমতা’ শীর্ষক ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
নারীর প্রতি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন, তাদের অবদানের স্বীকৃতি প্রদান এবং নারীর শ্রমকে মূল্যায়ন করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী এই প্রচার অভিযান চলবে তিন বছর। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নেতৃত্বে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ১২২টি সংগঠন যৌথভাবে এই প্রচার অভিযান চালাবে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে স্বাধীনতার মাসে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, শাহীন আনাম ও মাহফুজ আনামের দাওয়াতে আমি এখানে এসেছি। জিডিপিতে নারীর অবদান ২০ শতাংশ। নারীর উপেক্ষিত শ্রম মূল্যায়ন করলে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৪৮ শতাংশ হবে। তাই নারীকে মূল্যায়ন করে তার শ্রমকে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য প্রফেসর ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সভাপত্বিতে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, মহিলা ও শিশু বিষক প্রতিমন্ত্রী বেগম মেহের আফরোজ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম এবং এ প্রচারণার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন সহযোগী প্রতিষ্ঠান মাত্রার আফজাল হোসেন।
অনুষ্ঠান শুরুতে একটি তথ্য চিত্রে বলা হয়, পুরুষের চেয়ে নারী প্রায় ১৫ গুণ বেশি সাংসারিক কাজের বোঝা বহন করেন। বাংলাদেশে নারীদের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের হার প্রায় ৬৭ শতাংশ, দেশের মোট নারী শ্রমশক্তির ৭৮ ভাগ কৃষি খাতে নিয়োজিত। নারীশ্রম শক্তি দেশের সার্বিক খাতে ১২ শতাংশ এবং শিল্পখাতে ১০ ভাগ অবদান রাখছে। তারপরও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ৮০ শতাংশ নারী পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সহিংসতা, শোষণ, বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে ‘সমমর্যাদার অঙ্গিকার চলো পাল্টাই’ শীর্ষক প্লাকার্ড তুলে ধরে সকলে সচেতন হওয়ার অঙ্গীকার করেন। প্রচারাভিযানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন ডেলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল।