সাগর-রুনি হত্যা মামলা
আদালত না থাকায় শুনানি হয়নি তদন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদনের
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০১৪, ২৩:১৫
আদালত না থাকায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন এবং জামিনের আবেদনের শুনানি হতে পারেনি হাইকোর্টে। তবে আসামির আইনজীবীরা অন্য একটি আদালতে জামিনের আবেদন উপস্থাপন করলে আদালত জানান, এ ধরনের আবেদন শোনার এখতিয়ার তার আদালতের নেই। পরে আসামিদের জামিনের আবেদন বিচারপতি মো. শওকত হোসেন ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের ডিভিশন বেঞ্চ কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত বলেন, উপযুক্ত বেঞ্চে আবেদন দাখিল করতে পারেন। নির্ধারিত বেঞ্চে তদন্ত কর্মকর্তা হাজির হতে পারেন।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বেঞ্চ সাগর-রুনি হত্যার ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন তলব করে। একইসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হাইকোর্টে হাজির হতে র্যাবের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়। ঐ নির্দেশ দেয়ার দিনকয়েক পর বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। বিষয়টি গতকাল শুনানির জন্য ধার্য থাকলেও এর জন্য কোন বেঞ্চ নির্দিষ্ট ছিল না। অন্যদিকে যে বেঞ্চের এখতিয়ার আছে সে বেঞ্চে না গিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এখতিয়ার নেই এমন একটি বেঞ্চে গিয়েছিলেন। কিন্তু ওই বেঞ্চ আবেদনটি গ্রহণ করেননি। এ প্রসঙ্গে এডভোকেট এসএম মাসুদ হোসেন দোলন বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে এখন প্রধান বিচারপতির কাছে যাব। তিনি যে বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেবেন সেই বেঞ্চেই আবেদন উত্থাপন করব।
এদিকে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাবের এএসপি মো. জাফরউল্লাহও গতকাল হাইকোর্টে গিয়েছিলেন। তিনিও এই কোর্ট ওই কোর্ট ঘুরে বেরিয়েছেন। কিন্তু আদালত না থাকায় তার অগ্রগতি প্রতিবেদন নিয়েও শুনানি হয়নি।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি নিজ বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এ ঘটনায় পরদিন শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন রুনির ভাই নওশের আলম। ঐ মামলায় বকুল মিয়া, রফিকুল ইসলাম ও কামরুল হাসানকে ঐ বছরের ১০ অক্টোবর গ্রেফতার দেখানো হয়। এরা আবার ডা. নিতাই হত্যা মামলার আসামি। এই তিন আসামি গত সেপ্টেম্বরে সাগর-রুনি হত্যা মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন দাখিল করেন। উল্লেখ্য, এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তদন্ত শুরু করেছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ৬২ দিনের মাথায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রসঙ্গত এ মামলায় ঐ তিনজনসহ মোট আট আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।