সাহসী তর্জনী

না বাতাস, তুমি ওদিকে যেও না না সূর্য, তুমি পশ্চিমে হেলে প’ড়ো না না চাঁদ, এখনো তোমার জাগার সময় হয়নি! নক্ষত্রেরা, এখনি আকাশকে আলোকিত ক’রো না! ওই দেখো দিগন্তের ওই পাড়ে মায়াবিনী নীলাকাশ অপরূপ ছায়ার আবেশ নিয়ে দুই হাত বাড়িয়ে রয়েছে। অন্ধকার ফিরে যাচ্ছে দিগন্তের বাড়ি। আজ রমনার ঘাসের ’পরে সবুজের প্লাবন নেমেছে রাজপথ মুখরিত স্বপ্নের মায়াবী জ্যোত্স্নায়। সম্পূর্ণ মানচিত্র ব্যেপে সমুদ্রের কল্লোল জেগেছে। মৃত্তিকা ভেদ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই দ্যাখো, এক্ষুনি দৃপ্ত পায়ে হেঁটে আসবে আমাদের রাজার কুমার। দেখবে উদ্ধত হাতের খেলা, ঊর্ধ্বাকাশে সাহসী তর্জনী। মার্চের ৭ আজ, তাই বুঝি একটি বজ্রকণ্ঠে তুমুল গর্জন : ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এবার উচ্ছল হও, আলো ফেলো, আকাশকে নত হতে বলো। পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশে হাত রেখে উচ্চৈঃস্বরে গেয়ে ওঠো গান : ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।’