‘এভাবেই ব্যাট করতে চাই’
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০১৪, ২২:২০
ইলিশ মাছের প্রাণের মতোই ক্ষণস্থায়ী তার ব্যাটিং ফর্ম। কবে ভাল ব্যাট করবেন, আর কবে করবেন না এটা স্বয়ং বিধাতা ছাড়া কারও আগে থেকে বলে দেয়ার সাধ্য নেই। কিন্তু যখন ফর্মে থাকবেন, তখন পৃথিবীর যেকোন বোলিং আক্রমণকে চুরমার করে দিতে তিনি একাই যথেষ্ট। গত দুই ম্যাচে তার সেই ব্যাটিং আগুনেই পুড়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের বোলাররা। তিনি হলেন শহীদ খান আফ্রিদি। ফাইনালের দুইদিন আগে জানালেন, নিজের স্বাভাবিক ধরনেই খেলে যেতে চান।
এখন পর্যন্ত আপনাদের যা পারফরম্যান্স তাতে টুর্নামেন্টটিকে কিভাবে মূল্যায়ন করছেন?
শহীদ আফ্রিদি: আমি আগেও বলেছি যে, সিরিজটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামনেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আমার মনে হয় সঠিক সময়েই আমরা নিজেদের মেলে ধরতে পেরেছি।
বাংলাদেশের বিপক্ষে যখন ব্যাট করতে নামেন তখন জয়ের জন্য আরও ১০২ রান দরকার। তখন ভিতরে কি কাজ করছিল?
শহীদ আফ্রিদি: আমার উপর চাপ না থাকাটাই তো অস্বাভাবিক। ব্যাটিং পজিশনের কারণে সব সময়ই আমাকে অনেক চাপ নিয়ে মাঠে নামতে হয়। আর ১০২ রান বাকি থাকতে যখন নামি তখন আমাদেরকে ওভার প্রতি ১০ এর উপর রান তুলতে হত। ফলে চাপ আরও বেশি ছিল। তবে, ওইদিন আমাদের আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল না। মনে হচ্ছিল ম্যাচটা আমরা জিততে পারবো। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচেও আমাদের উপর অনেক চাপ ছিল। চাপের মধ্যে ভাল খেলার অভিজ্ঞতা আগের ম্যাচই আমাদের দিয়েছে।
দুইটি ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেললেন। কোনটাকে বেশি এগিয়ে রাখবেন?
শহীদ আফ্রিদি: আসলে দুইটি ম্যাচে জয়ই পাকিস্তানের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ফলে দুইটি ইনিংসই আমার মতে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যারিয়ার নিয়ে কি ভাবছেন?
শহীদ আফ্রিদি: এতো দূরের ব্যাপার নিয়ে এখন ভাবতে চাই না। এখন আমি আর আমার দল কেবল এশিয়া কাপের ফাইনাল নিয়ে চিন্তিত। এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ফলে এটাকেও চিন্তাতে রাখতে হচ্ছে।
টানা দুই ইনিংসে ভাল ব্যাট করলেও আপনার ব্যাটিংটা কোন সময়ই ধারবাহিক না...
শহীদ আফ্রিদি: এমন কোন নিয়ম নেই যে, আমাকে প্রতিদিনই রান করতে হবে। আমাকে বোলিং নিয়েও কাজ করতে হয়। আমি সব সময়ই পারফরম করতে চাই। সেটা বল হাতেই হোক, কিংবা ব্যাটিংয়ে। নিজের পারফরম্যান্সে সব সময়ই দলের জয় আনতে চেয়েছি।
মহেন্দ্র সিং ধোনি না থাকাতে কি ভারতের বিপক্ষে জয়টা সহজে এসেছে?
শহীদ আফ্রিদি: ধোনিকে নিয়ে কোন কালেই কোন সন্দেহ ছিল না। আমি সব সময়ই অধিনায়ক ধোনির প্রশংসা করে এসেছি। কিন্তু, সেই ম্যাচে আমরা এগিয়ে থেকেই জিতেছি। এখানে তার থাকা বা না থাকার কোন ব্যাপার জড়িত ছিল না। ক্রিকেট খেলাটাই এমন। নির্দিষ্ট দিনে যে ভাল খেলবে সেই জিতবে। আর ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ের ক্ষেত্রে এটা আরও বেশি প্রযোজ্য। আগে থেকে কেউ বলে দিতে পারবে না যে, এখানে কে জিতবে।
ব্যাটিং করার সময় আপনার ভাবনায় কি থাকে?
শহীদ আফ্রিদি: আমি জানি যে, শট নিয়ে ভাবলে আমি কখনওই পারফর্ম করতে পারবো না। তাই নিজের স্বাভাবিক খেলায় জোর দেই। আমি এভাবেই ব্যাট করতে চাই।
আইপিএলের ব্যাপারে ভাবনা...
শহীদ আফ্রিদি: এটা নিয়ে আমি বলার কেউ না। ভারতীয় সরকারের কাছে জানতে চান।
ভারত ও পাকিস্তানের কি আরও ঘন ঘন ম্যাচ খেলা উচিত নয়?
শহীদ আফ্রিদি: হ্যা অবশ্যই। আমার তো সেরকমই মনে হয়। পাকিস্তান যেকোন ব্যাপারে ভারতকে সাহায্য করে। ঝুঁকি থাকার পরও আমরা ভারতে ক্রিকেট খেলতে যাই। আমার মতে কেবল ক্রিকেটই ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ককে আরও সুন্দর করতে পারে। খেলাধুলা হূদ্যতা বাড়ায়। ভারতে ক্রিকেট খেলতেই আমার বেশি ভাল লাগে। সব কিছুর উপরে হল আমরা প্রতিবেশী। আমাদের সম্পর্ক আরও ভাল হওয়া উচিত।
২০১৫ সাল নাগাদ আপনাদের লক্ষ্য কি?
শহীদ আফ্রিদি: ২০১৫ বিশ্বকাপ যেকোন দলের জন্যই একটা চ্যালেঞ্জ। আমি যতদিন পর্যন্ত ফিট থাকবো ততদিন দেশের হয়ে খেলে যেতে চাই। যেদিন মনে হবে আমি দলের জন্য বোঝা হয়ে উঠেছি, সেদিন কাউকে কথা বলার সুযোগ না দিয়েই সরে যাবো। এখন যেভাবে আমরা খেলছি, সেটা যদি ধরে রাখতে পারি আর যদি সৃষ্টিকর্তা সহায় হন তাহলে অবশ্যই আমরা বিশ্বকাপ জিতবো।
এখানকার দর্শকদের কেমন দেখলেন?
শহীদ আফ্রিদি: হ্যা সব সময়ই দর্শকদের সমর্থন ভাল লাগে। বাংলাদেশি দর্শকদের আমাদের সমর্থন করার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ। এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক।