দলে পরোক্ষ অবদান রাখতে চাই: স্মিথ
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০১৪, ২২:২১
কেপটাউন টেস্ট শেষ হবার সাথে সাথেই দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ শেষ হয়েছে। তবে পরোক্ষভাবে হলেও দেশের ক্রিকেটে অবদান রাখার সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না সদ্যই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানো গ্রায়েম স্মিথ। দক্ষিণ আফ্রিকা তো বটেই টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল অধিনায়কটি বলেছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পরও তিনি দেশের ক্রিকেটে ভূমিকা রাখতে চান।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় টেস্ট দলের ২৪৫ রানে পরাজয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক হিসাবে শেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটে আমি ভবিষ্যতে একটি ভূমিকা রাখতে চাই এবং সেটা কোন ধরনের কেউ তা জানে না। এতগুলো বছর আমি অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, অনেক লোকের সঙ্গে কাজ করেছি এবং আমি মনে করি দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটকে দেয়ার মত আমার মধ্যে এখনো অনেক কিছু আছে।’
স্মিথ বলেন, ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে হলে দলের মধ্যে সঠিক পরিবেশ সৃষ্টি করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে তিনি বিশ্বাস করতেন। ৩৩ বছর বয়সী স্মিথ বলেন, ‘আমি মনে করি কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন করা উচিত। দলের নেতৃস্থানীয়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে- তারা খেলোয়াড়দের কিভাবে পরিচালনা করবে, কিভাবে কাজে লাগাবে এবং সঠিক নির্দেশনা মত পরিচালনা করবে। দলে অনেক ভাল খেলোয়াড় রয়েছে যারা দলকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে পারবে তবে বাইরের নির্দিষ্ট কিছু বিষয় আছে যা ঠিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে।’ অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক বলেন, স্মিথের অবসর দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের জন্য বড় ক্ষতি।
ক্লার্ক বলেন, ‘তার যা অর্জন তাতে সে অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। নেতা হিসাবে সে অতুলনীয় এবং কোন সন্দেহ নেই খেলাটির সর্বকালের সেরা অধিনায়কদের তালিকায় তার নাম থাকবে। ক্রিকেটে তার অভাব খুব বেশি অনুভূত হবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও তার নেতৃত্ব থেকে অনেক কিছু শিখেছি।’ স্মিথ জানান, গত বছর গ্যারি কার্স্টেন কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় থেকেই তিনি অবসরের কথা ভাবতে শুরু করেন। আর শেষ টেস্টের আগেই যে বিদায় ঘোষণাটি আসবে সেটিও নাকি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ব্যক্তিগত জীবনে দুই মেয়ের জনক এই বাঁহাতি ওপেনার বলেন, ‘তিনি কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় থেকেই অবসরের চিন্তাটা আমার মধ্যে শুরু হয়েছে। সিরিজ শুরু হওয়ার আগ থেকেই বিষয়টি আমার মনে ছিল। কঠিন বিষয়টি ছিল সাহস করে ঘোষণা দেয়াটা। আমার মনে হয়েছে এটাই আমার জন্য সঠিক সময়- টেস্ট ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই আমি ঘোষণা দিতে চেয়েছিলাম।’ তার ১৯ মাস বয়সী কন্যা ক্যাডেন্সের একটি দুর্ঘটনা তার মনোযোগ বিঘ্নিত করেছে বলেও জানান স্মিথ। খেলাটির সর্বোচ্চ পর্যায়ে সর্বোচ্চ মনঃসংযোগ নিয়েই মাঠে নামা উচিত জানিয়ে স্মিথ আরো বলেন, ‘আপনি অনেক বিষয়ই ভুলে থাকতে পারবেন। তবে আমার মনে হয়েছে এখানেই আমার ইতি টানা উচিত।’
তার ক্যারিয়ারের উল্লে¬খযোগ্য বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে স্মিথ বলেন, ‘একজন অধিনায়ক হিসাবে আপনি যখন খেলোয়াড়দের শনাক্ত করতে শুরু করবেন, আপনি যে ধরনের পরিবেশ চান এবং আপনার চাহিদা মত সব কিছু হচ্ছে- এটাই আমার সেরা অর্জন।’
তিনি বলেন, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় এবং এশিয়া উপমহাদেশে টেস্ট সিরিজ জয় তার উল্লে¬খযোগ্য অর্জন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় অপরাজিত থাকা এবং দেশের বাইরে আমাদের রেকর্ড যা সত্যিই আমাকে গর্বিত করে।’ টেস্টে ৯২৬৫ এবং ওয়ানডেতে ৬৯৮৯ রান করা স্মিথ বলেন, তার টেকনিক নিয়ে সমালোচনা থাকলেও তার ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়েও সন্তুষ্ট তিনি।
স্মিথ বলেন, ‘আমার পেশাদার জীবন শুরু করার সময় টেকনিক নিয়ে আমাকে অনেক সমালোচনা শুনতে হয়েছে এবং আমাকে অনেক কিছুই পরিবর্তন করতে হয়েছে।’ বাসস/ এএফপি।