বাংলাদেশে অধিকাংশ নারী নির্যাতনের শিকার
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০১৪, ২২:৩৯
বাংলাদেশে বেশিরভাগ নারী সহিংসতার শিকার। তারা নিজ গৃহে, রাস্তায়, কর্মক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার হন। ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠান বিষয়ে ঢাকাস্থ ডেনমার্ক দূতাবাসে আয়োজিত সাংবাদিক সাম্মেলনে সাত নারী কূটনীতিক এ কথা বলেন।
সাত কূটনীতিক হলেন ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত হানে ফুগল ইস্কজায়ের, কানাডার হাইকমিশনার হিদার ক্রুডেন, ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত ওয়ানজা ক্যামপস ডা নবরেগা, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত মেরেতে লুন্ডেমো, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত এনেলি লিনডাল কেনি, ইউএনএফপিএ’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি আর্জেন্টিনা মাটাভেল পিচিন এবং জাতিসংঘের নারী বিষয়ক প্রতিনিধি ক্রিস্টিন হান্টার।
ইউএনএফপিএ’র প্রতিনিধি আর্জেন্টিনা মাটাভেল পিচিন বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে ৭০ থেকে ৮০ ভাগই নারী কর্মী। তারাই এখন বাংলাদেশর অন্যতম অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি হিসেবে পরিগণিত হচ্ছেন। তবে এসব নারী শ্রমিকের সংখ্যা মোট নারী জনগোষ্ঠীর তুলনায় কম। অর্ধেক জনগোষ্ঠিকে উন্নয়নের ধারার থেকে বাইরে রেখে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হতে পারবে না।
ক্রিস্টিন হান্টার বলেন, বাংলাদেশের নারী শিক্ষা খুব নাজুক অবস্থায় রয়েছে। অধিকাংশ নারী তাদের শিক্ষা সম্পূর্ণ করতে পারেন না। তাই তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা অনেক ক্ষেত্রেই নেই। ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত হানে ফুগল ইস্কজায়ের বলেন, সকল ক্ষেত্রে নারীর যোগদানের ফলেই নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে ডেনমার্ক ৭০ এর দশক থেকে প্রচারণা চালিয়ে সাফল্য পেয়েছে বলে জানান। কানাডার হাইকমিশনার হিদার ক্রুডেন বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা কোন মাত্রা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। যে কোন অবস্থায় নারীর প্রতি সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়।
সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথমদিনে আজ শুক্রবার ডেনমার্ক রাষ্ট্রদূতের বাসায় বাংলাদেশি চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন হচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এছাড়া ১০ মার্চ সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমিতে একটি শ্রুতি নাটিকা উপস্থাপিত হবে। এ নাটিকাটির নাম ‘সাত নারী’। শ্রুতি নাটিকায় অংশ নেবেন ৫ দেশের রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘের ২ জন প্রতিনিধি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ৭ নারীর সংগ্রামের চিত্র ফুটিয়ে তুলবেন তারা।