বঙ্গবন্ধু কোন দলের নেতা নন, তিনি বাঙালি জাতির জনকও

বাঙালি জাতিসত্তার অস্তিত্ব ও পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন বঙ্গবন্ধু। তিনি বাঙালি জাতিকে বিশ্বের বুকে স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু কেবল বিশেষ কোন দলের নেতাই নন, তিনি বাঙালি জাতির জনকও। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমি আয়োজিত ‘১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ’ শীর্ষক একক বক্তৃতানুষ্ঠানে সৈয়দ বদরুল আহসান এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। সভাপতিত্ব করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জমির। সৈয়দ বদরুল আহসান বলেন, বঙ্গবন্ধু অসামপ্রদায়িক চেতনার মাধ্যমে বাঙালি জাতির জন্য স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আপোষহীনভাবে সংগ্রাম শুরু করেন। বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক জীবনে অসীম সাহসের সাথে শোষকের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেছেন। সকল মতভেদ সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতেই হবে। সভাপতির ভাষণে মোহাম্মদ জমির বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিচক্ষণ ও প্রখর ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তবে তার সবচেয়ে বড় গুণ ছিল সততা। তিনি ছিলেন অত্যন্ত খোলা মনের মানুষ, যে কারণে খুব সহজেই মানুষকে প্রভাবিত করতে পারতেন। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে বাংলাদেশের পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বৈশ্বিক পেক্ষাপটকে বিবেচনায় রেখে পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শামসুজ্জামান খান বলেন, ৭ই মার্চ বাঙালি জাতির জন্য তথা বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশ ও ইতিহাস মূল্যায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাত্পর্যময় এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু এত বিজ্ঞতার সঙ্গে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের দিকনির্দেশনা দেন যে, তা আমাদের কাছে বিস্ময়কর মনে হয়। তত্কালীন রাজনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় রেখে সময়োপযোগী এই ভাষণটি এখন আমাদের বহুমাত্রিক গবেষণার বিষয় হয়ে উঠেছে।