পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হয়, তাই সমর্থন দেয় চীন
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০১৪, ২৩:০৯
বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জুন বলেছেন, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের সংবিধান ও আইনের শাসন অনুযায়ী হয়, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূল নীতি। বিএনপি এই নির্বাচন বর্জন করায় ভোট প্রদানের হার কম ছিল। তা সত্ত্বেও সংবিধান অনুযায়ী এ নির্বাচন হওয়ায় চীন নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানায়। চীন এখনও প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে গঠনমূলক সংলাপের জন্য উত্সাহিত করে। যাতে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের হয়।
চীনা রাষ্ট্রদূত গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে কূটনৈতিক রিপোর্টারের সংগঠন ডিকাব এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিকাব সভাপতি মাঈনুল আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক আঙ্গুর নাহার মন্টি।
চীনা রাষ্ট্রদূত দুই প্রধান দলকে সংলাপের জন্য উত্সাহিত করে বলেন, দুই দলের দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন কবে হবে তা পুরোপুরি নির্ভর করে বাংলাদেশের জনগণের উপর। বিদেশিদের চেয়ে এখানকার পরিস্থিতি জনগণই ভাল বুঝেন। তবে চলমান উপজেলা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দল উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়ায় ইতিবাচক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় সংলাপের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যবধান ঘুচিয়ে আনা সম্ভব হবে।
রাষ্ট্রদূত লি জুন বলেন, বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদকে সর্বোচ্চ উপায়ে দমন করছে। চীন এটা প্রশংসা করে। বাংলাদেশের সন্ত্রাস বিরোধী পদক্ষেপের ফলে নিকট প্রতিবেশী হিসাবে চীন উপকৃত হচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা পেলে তা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ভারসাম্য সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা, ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। বিশ্ব শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ অবদান রাখছে। সময়মত প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থিতিশীলতা জরুরি। হরতাল আর সহিংসতা, জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা ও বিদ্যুত্ সংকটের কারণে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক ভোগান্তি হচ্ছে।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, এই অঞ্চলে যোগাযোগ ও পরিবহন অবকাঠামো, বিনিয়োগ, বাণিজ্য বাড়াতে বিমসটেক কাজ করে যাচ্ছে। নতুন সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিআইএম) হলে চীন থেকে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারত পর্যন্ত সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। সেজন্য আরো সুবিধা ও সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে যদি সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর, বিদ্যুত্ কেন্দ্র ও নদীতে টানেল নির্মিত হয়। চীন এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করতে চায়। দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার মাঝে অবস্থানের কারণে ভৌগোলিক সুবিধা পাবে ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে পারবে বাংলাদেশ। সেইসঙ্গে চীনসহ এই অঞ্চলের সবাই উপকৃত হবে। বাংলাদেশ চীন থেকে দুটি সাবমেরিন সংগ্রহ করছে। এতে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা ছাড়াও বাংলাদেশ উপকৃত হবে। ভারত বা অন্য কোন দেশের উদ্বিগ্ন হবার কোন কারণ নেই। চীন ও ভারত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহযোগী। বাংলাদেশ দুই দেশ থেকেই সুবিধা গ্রহণ করে উন্নত হতে পারে।
বাংলাদেশ ও চীনের বাণিজ্য ঘাটতি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত লি জুন বলেন, বছরে দশ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের মধ্যে বাংলাদেশ ঘাটতিতে রয়েছে। ঘাটতি কমাতে কিছু করা দরকার। বেশি বেশি চীনা বিনিয়োগ আসলে ঘাটতি কমে আসবে। এতে চীনের জন্য একটি বিশেষায়িত রপ্তানি অঞ্চল ও দুদেশের মধ্যে অবাধ বাণিজ্য চুক্তি হলে বিনিয়োগ বাড়বে ও বাণিজ্য ঘাটতি কমবে।
গত বছর বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ ছিল এক বিলিয়ন ডলার। বেশ কয়েকটি বড় বিনিয়োগ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বাংলাদেশকে প্রকল্প আর আর্থিক সহায়তা চীন বাড়িয়ে দিচ্ছে। নতুন ১৪টি প্রকল্পের জন্য প্রায় নয় বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব নিয়ে এখন কাজ চলছে।