বিদ্যুতের দাম ৫ দশমিক ১৩ ভাগ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে বিইআরসি
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০১৪, ২৩:১০
পাঁচটি বিদ্যুত্ বিতরণী সংস্থা ও কোম্পানির প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুতের দাম গড়ে ৫.১৩ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। আগামী সপ্তাহে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে ১ মার্চ থেকেই বর্ধিত দামের এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
এ প্রসঙ্গে বিইআরসির চেয়ারম্যান এ আর খান বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। সবার পরামর্শ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে।
রাজধানীর কাওরানবাজারে বিইআরসি কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার তিনদিনব্যাপী এই গণশুনানি শেষ হয়েছে। গতকাল শুনানির শেষ দিনে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পেশ করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। আরইবি’র ১২.৫৮৭ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবে ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে বিইআরসির মূল্যায়ন কমিটি। এছাড়া পিডিবি বর্তমান দামের উপর ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুত্ বিতরণ কোম্পানির (ওজোপাডিকো) ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ঢাকা ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ১৫.৯০ শতাংশ ও ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ২৩.৫০ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে।
এসব প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিইআরসি’র মূল্যায়ন কমিটি পিডিবি’র জন্য ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ওজোপাডিকোর ক্ষেত্রে ৭ দশমিক ৫১ শতাংশ, ডেসকো’র ২.০১ শতাংশ ও ডিপিডিসির বিদ্যুতের দাম ৬.০৩ শতাংশ হারে বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। এই হিসাবে বিইআরসি কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি গড়ে ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। গণশুনানিতে অংশ নেন বিইআরসির চেয়ারম্যান এ আর খান, কমিশনের সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ, প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন ও মো. মাকসুদুল হক।
পিডিবির প্রস্তাবে বলা হয়, খুচরা বিদ্যুতের মূল্যহার সরবরাহ ব্যয়ের তুলনায় কম হওয়ায় বিদ্যুত্ সংস্থা ক্রমশ আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। দাম বাড়ানো হলে খুচরা বিদ্যুতের সরবরাহ ব্যয় ও খুচরা মূল্যহার সমপর্যায়ে আসবে। বিদ্যুতের যৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধি করলে অপচয় ও চাহিদা হ্রাস পাবে বলেও পিডিবির পক্ষে দাবি করা হয়।
পিডিবি জানায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রাক্কলিত হিসাব অনুযায়ী গড় খুচরা সরবরাহ ব্যয় হবে ইউনিট প্রতি ৬ টাকা ৯৩ পয়সা। যার বিপরীতে বর্তমান খুচরা বিক্রয় মূল্য ৬ টাকা। বিদ্যুতের খুচরা বিক্রয়মূল্য ও খুচরা সরবরাহ ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ খুচরা মূল্যহার বৃদ্ধি না করা হলে পিডিবি’র বিতরণ খাতে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হবে।
ওজোপাডিকোর প্রস্তাবের উপর শুনানিতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘মার্চ ২০০৭-সেপ্টেম্বর ২০১২ সাল পর্যন্ত বাল্ক ট্যারিফ বৃদ্ধি পেয়েছে ৮৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। খুচরা মূল্যহার বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। খুচরা মূল্যহার ন্যূনতম ৬৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া প্রয়োজন ছিল। বাল্ক ট্যারিফের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে খুচরা মূল্যহার সমন্বয় না করায় কোম্পানির লোকসান হচ্ছে।
ডেসকো তার প্রস্তাবে বলেছে, ক্রয়মূল্য ও অন্যান্য খরচসহ প্রতি ইউনিটের মূল্য পড়ছে ৭.১৪ টাকা। আর বিক্রি করা হচ্ছে গড়ে ৬.৫৮ টাকা দরে। দাম বাড়ানো না হলে চলতি অর্থবছরে ১৪৯ কোটি টাকা লোকসান দিতে হবে। দাম বাড়ানো না গেলে ভর্তুকি দেয়ার প্রস্তাব করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিরোধিতা করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।