পাঁচ বছরেও গ্রেফতার হয়নি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৭ আসামি

ফুলগাজীর একরাম হত্যাকাণ্ড

 হাবিবুর রহমান, ফেনী প্রতিনিধি

২০১৪ সালের ২০ মে ফুলগাজী উপজেলার চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি একরামুল হক একরামকে ফেনী শহরে একাডেমি সড়কে প্রকাশ্য দিবালোকে দলীয় কর্মীরা কুপিয়ে, গুলি করে ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে । এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ৫ বত্সর অতিক্রান্ত হলেও ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত ৩৯ আসামির মধ্যে ১৭ জনকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ, যাকে ‘রহস্যজনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে একরামুলের স্বজনরা। তারা দাবি করেছেন, গত ৫ বছর ধরে ফাঁসির সাজা নিয়ে পুলিশের সামনে দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এরা।

এ মামলায় ৫৯ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৫০ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। মামলার অভিযোগভুক্ত আসামিদের মধ্যে ১৬ জন বিচারিক আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ ফেনীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আমিনুল হক ৩৯ জনকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ সহ ৫৫ জনকে সাজা দেন। বাকি ১৬ জনকে আদালত বেকসুর খালাস প্রদান করেন।

ফাঁসির দণ্ড পাওয়া কারাবন্দি আসামিরা হচ্ছেন হত্যার পরিকল্পনাকারী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির আদেল, ফেনী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহিল মাহমুদ শিবলু, সাজ্জাদুল ইসলাম পাটোয়ারী ওরফে সিফাত, আবু বক্কার সিদ্দিক ওরফে বক্কর, মো. আজমির হোসেন রায়হান, শাহজালাল উদ্দিন শিপন, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ওরফে আজাদ, কাজী শানান মাহমুদ, মীর হোসেন আরিফ ওরফে নাতি আরিফ, আরিফ ওরফে পাঙ্কু আরিফ, রাশেদুল ইসলাম রাজু, মো. সোহান চৌধুরী, জসিম উদ্দিন নয়ন, নিজাম উদ্দিন আবু, আবদুল কাইউম, নুর উদ্দিন মিয়া, তোতা মানিক, মো. সজিব, মামুন, রুবেল, হুমায়ুন ও টিপু। অন্যদিকে, একই সাজাপ্রাপ্ত পলাতক ১৭ জন হচ্ছেন ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তত্কালীন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়লা জেসমিন ওরফে বড় মনির ছেলে আবিদুল ইসলাম আবিদ, চৌধুরী মো. নাফিজ উদ্দিন অনিক, আরমান হোসেন কাউসার, জাহেদুল হাসেম সৈকত, জিয়াউর রহমান বাপ্পি, জসিম উদ্দিন নয়ন প্রমুখ।