শিশুর প্রাণময় শৈশবকে রক্ষা করতে হবে
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০১৪, ২১:০৫
অনেক ব্যসত মা-বাবা-অভিভাবক আছেন, যাঁরা তাঁদের সন্তানদের সময় দিতে না পারার ক্ষতিটুকু পুষিয়ে দিতে, কখনো-বা সন্তানের মন রাখতে কিংবা ভুলিয়ে রাখার চেষ্টায় নির্বিচারে টিভি দেখা আর গেমস নিয়ে সময় কাটানোর অবাধ স্বাধীনতা দিয়ে দেন। কিন্তু শিশু-মনস্তত্ববিদরা এ নিয়ে আমাদের জানাচ্ছেন ভয়াবহ সব তথ্য।
জার্মানির বিশেষজ্ঞরা সমপ্রতি এক গবেষণায় বলেন, আমাদের মস্তিষ্কের যে অংশটি আবেগ-অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে, নিয়মিত ভিডিও গেমস খেলার ফলে শিশু-মসিতষ্কের সে অংশটি প্রায় অসাড় আর অবসন্ন হয়ে পড়ে। শুধু তা-ই নয়, শারীরিক-মানসিক উত্তেজনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পিঠের অংশটি হয়ে ওঠে অত্যধিক সক্রিয়, যার প্রভাব অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর চেয়েও মারাত্মক দুঃসংবাদ এসেছে রাশিয়া থেকে। বছর কয়েক আগে ১২ বছর বয়সী কয়েকজন বালক ক্রমাগত উত্তেজনাকর ভিডিও গেমস খেলার কারণে স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে মারা যায়।
চিকিত্সাবিজ্ঞানীরা এও বলেছেন, ভিডিও গেমস প্রায়শই শিশুদের কল্পনা ও বাস্তবতার পার্থক্য-রেখাটি ভুলিয়ে দেয়। ভারতের বিশিষ্ট শিশু-মনস্তত্ত্ববিদ হেমাঙ্গি দাভালে বলেন, এসব গেমস শিশুরা নিয়মিতভাবে খেলার ফলে এর সহিংসতাকেই একসময় স্বাভাবিক বাস্তবতা বলে ধরে নেয়। ফলে প্রাত্যহিক জীবনে কখনো কখনো তাদের এসব প্রয়োগ করার ইচ্ছা জাগে। তখন নিজেকে গেমসের অংশ বলে মনে করে হিংস্র শারীরিক সক্ষমতা ও সহিংসতাকে অনুকরণ করতে চায়। তাঁরা আরো জানাচ্ছেন, ভিডিও গেমস শিশুর অফুরান মনোদৈহিক শক্তি ক্ষয় করে ফেলে। শেষপর্যন্ত তাকে করে তোলে অবসাদগ্রস্ত। ভারতের আরেকজন শিশু-বিশেষজ্ঞ নির্মলা রাও বলেন, এ ধরনের খেলা শিশুদের মসিতষ্কের ওপর চাপ বাড়ায় এবং উদ্ধত হয়ে ওঠাসহ নানারকম সমস্যা তৈরি করে।
গেমস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনে আমরা প্রভাবিত হচ্ছি। অবিদ্যার কারণে কেউ কেউ আবার এটাও ভেবে বসি যে, ভিডিও গেমস শিশুদের বুদ্ধিদীপ্ত করে তোলে। আর এ ভয়াবহ অজ্ঞানতার অসহায় শিকার হয় আমাদের কোমলমতি শিশুরা।
সমীক্ষায় আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। সেটি হলো, বাচ্চারা কার্টুন দেখেই বেশি সময় কাটায়। কিন্তু ওসব কার্টুনেই মজার ছলে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে হিংসাত্মক ঘটনা। এ ওকে মারছে, সে এসে আবার পালটা মার দিচ্ছে ইত্যাদি। এতে তাত্ক্ষণিক মজা আছে বটে, কিন্তু দূরপ্রসারী ফল হতে পারে ধ্বংসাত্মক আর ভয়াবহ।
শিশুর দুরন্ত প্রাণময় শৈশবকে এসব ভুল আর ক্ষতিকর বিনোদনের আগ্রাসন থেকে সচেতনভাবে রক্ষা করা, বাঁচিয়ে রাখা এখন আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।
ঢাকা