আজ নজর কাড়তে পারেন যারা...

শিরোপা ধরে রাখবে পাকিস্তান? নাকি পঞ্চমবারের মতো শিরোপা জিতে ভারতের পাশে নাম লেখাবে শ্রীলঙ্কা? অনেক সমীকরণ নিয়ে আজ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাঠে গড়াচ্ছে দ্বাদশ এশিয়া কাপের ফাইনাল। শিরোপার লড়াইয়ে মাঠে নামছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। দু’দলেই আছেন এক ঝাঁক পারফরমার। নজর রাখতে হবে তাই বেশ কয়েকজনের দিকেই। লিখেছেন এ কে এম মুজিব। শহীদ আফ্রিদি তার প্রতিভা নিয়ে কোন কালেই কোন সন্দেহ ছিল না। সমস্যা একটাই, ফর্মটাই বড্ড ক্ষণস্থায়ী। কোন দিন পারফরম করবেন আর কোন দিন করবেন না সেটা স্বয়ং বিধাতাই কেবল বলতে পারেন। এশিয়া কাপের প্রথম দুটি ম্যাচেও আউট হয়ে গিয়েছিলেন বাজে ভাবে। কিন্তু সেই শহীদ খান আফ্রিদি যখন ফিরলেন, তখন সেই ফেরার আগুনে ঝলসে গেল ভারত ও বাংলাদেশ। শুরুটা হল ভারতের বিপক্ষে শেষ ওভারের দুই ছয় দিয়ে। তার ১৮ বলে ৩৪ রানের ইনিংসেই চীর প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারায় পাকিস্তান। তবে এর চেয়েও বড় ঝড়টা যায় বাংলাদেশের উপর। ব্যাট করতে যখন নামেন তখন নয় ওভারের মধ্যে পাকিস্তান একশ রানেরও বেশি পিছিয়ে। সেখান থেকে দলের হাল ধরে একাই নিয়ে গেলেন দলকে জয়ের বন্দরে। ২৫ বলে ৫৯ রানের ইনিংসের সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেন আফ্রিদি। আজ ফাইনাল জয়ের জন্য আফ্রিদির ব্যাটেই তাকিয়ে থাকবে পাকিস্তান। আহমেদ শেহজাদ ৩২৬ রান তাড়া করে পাকিস্তানের জয়ে সবাই আফ্রিদির ভূমিকাই খুঁজে পাবেন। কিন্তু এর আগেই জয়ের মঞ্চ প্রস্তুত করে গিয়েছিলেন দলের ওপেনার আহমেদ শেহজাদ। ১২৩ বলে ১০৩ রানের ইনিংসেই জয়ের রাস্তা সহজ হয় পাকিস্তানের। আর সেই ম্যাচ বাদ দিলেও গোটা টুর্নামেন্ট জুড়েই দারুণ ফর্মে আছেন এই ব্যাটসম্যান। চলমান এশিয়া কাপে সর্বোচ্চ রান করা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন এই ব্যাটসম্যান। চার ম্যাচে ৫৫.৭৫ গড়ে করেছেন ২২৩ রান। মোহাম্মদ হাফিজ অল রাউন্ড পারফরম্যান্স বিবেচনায় এশিয়া কাপে পাকিস্তানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন মোহাম্মদ হাফিজ। চার ম্যাচে ৩৮.৭৫ গড়ে করেছেন ১৫৫ রান। এর মধ্যে ভারতের বিপক্ষে বাঁচা মরার লড়াইয়ে তার ব্যাট থেকে এসেছিল ৭৫ রান। অফ ব্রেক বোলিংয়ে দিয়ে প্রায়ই তাকে ইনিংসের সূচনা করতে দেখা যায়। আর এখানেও তিনি বেশ কার্যকর। এশিয়া কাপেও নিয়েছেন চারটি উইকেট। আজকেও তার ঝলকই দেখতে চাইবে পাকিস্তান। লাসিথ মালিঙ্গা তার সবচেয়ে বড় ঝলক দেখা গিয়েছিল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে। শ্রীলঙ্কার ২৯৬ রান তাড়া করে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে মাত্র চার উইকেট হারিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল ২৪২ রানে। এরপর লাসিথ মালিঙ্গা একাই পাল্টে দিলেন ম্যাচের গতিপথ। মিসবাহ উল হককে আউট করা দিয়ে শুরু করলেন। এরপর একে একে পেলেন আরও চারটি উইকেট। ১২ রানে ম্যাচ হারলো পাকিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে খেলেননি। বাকি দুটি ম্যাচে বলার মতো কোন পারফরম্যান্সও নেই। কিন্তু বোলারের নাম যখন মালিঙ্গা তখন বড় ম্যাচের আগে তার দিকে নজর দিতেই হচ্ছে। অজন্তা মেন্ডিস এই এশিয়া কাপ দিয়েই তার সঙ্গে প্রথম পরিচিত হয় ক্রিকেট বিশ্ব। ইনজুরি আর অফ ফর্ম মিলিয়ে মাঝে একবার প্রায় হারিয়েই গিয়েছিলেন। আবারও রুদ্রমূর্তিতে ফিরলেন সেই এশিয়া কাপ দিয়েই। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দলে ছিলেন না। বাকি তিনটি ম্যাচেই তার ক্যারম বলের সামনে অসহায় হয়ে পড়েছিলেন বিপক্ষ দলের বোলাররা। সব মিলিয়ে ২৬ গড়ে নয় উইকেট নিয়ে তিনিই এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলার। কুমার সাঙ্গাকারা ক্রিকেট শুদ্ধতা বা পারফরম্যান্স—কোন কিছুতেই তাকে টপকে যাওয়ার মতো খেলোয়াড় এখন ক্রিকেট বিশ্বে বিরল। আর মঞ্চটার নাম যখন এশিয়া কাপ তখন তার নাম উচ্চারিত হবেই। এশিয়া কাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ব্যাটসম্যানদের তালিকায় এই ব্যাটসম্যান আছেন দ্বিতীয় অবস্থানে। আর এই টুর্নামেন্টেও আছেন দারুণ ফর্মে। চার ম্যাচে ৬২ গড়ে করেছেন ২৪৮ রান। এর মধ্যে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে একাই জয়ে এনে দিয়েছেন দলের।