কৃষক বাঁচাতে চাই কৃষিপণ্যের জাতীয় মূল্য কমিশন

কৃষি পণ্যের উত্পাদন-বিপণন ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াটিই ভুলে ভরা পথে পরিচালিত হচ্ছে। যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে যে কোনো সময় মুখ থুবড়ে পড়বে কৃষির উত্পাদন। দেশে গত পাঁচ বছরে ধান ও গমের উত্পাদন বেড়েছে। কিন্তু বিগত কয়েক মৌসুম থেকে কৃষক ধান, পাট, আলুসহ সকল প্রকার কৃষি উত্পাদনের লাভজনক মূল্য পাচ্ছে না। ফলে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে কর্মজীবী নারী ও জাতীয় জন-মূল্য কমিশন যৌথ আয়োজনে ‘খাদ্য নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব অর্জনে কৃষিপণ্যের লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করঃ জাতীয় মূল্য কমিশন গঠন কর’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, কৃষি অর্থনীতির উন্নয়নে কৃষি পণ্যের জাতীয় মূল্য কমিশন গঠন করা হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ ও মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রভাবে কৃষিব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার সমন্বিত পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। সভায় বক্তারা লাভজনক মূল্য নির্ধারণ ও কৃষি ও কৃষক সুরক্ষায় ‘কৃষি পণ্যের জাতীয় মূল্য কমিশন’ গঠনের দাবি জানিয়ে বলেছেন, কৃষক তার জীবনযাপনের ধারাবাহিকতায় নিজেকে চালিত করতে পারছে না। দারিদ্র্যের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে প্রতিনিয়তই অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক। পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যের মানবিক চাহিদাগুলো অপূরণীয় রেখে সামনের দিকে এগুতে পারছে না। এ জন্য একটি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় কৃষকের উত্পাদিত পণ্যের মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থাপনা চালু করা খুবই জরুরি। যাতে করে একই সাথে উত্পাদক ও ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষিত হয়। বক্তারা আরো বলেন, দেশে কয়েক বছর থেকে খাদ্য আমদানি করতে হচ্ছে না। ফলে খাদ্য আমদানি খাতে রাষ্ট্রের আমদানি ব্যয় বেঁচে যাচ্ছে; বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। এদিকে গত ৫ বছরে ৩ শতাংশ হারে খাদ্য উত্পাদন বেড়েছে। এই অগ্রগতির পেছনে রয়েছে কৃষকের ক্ষোভ-হতাশাসহ অক্লান্ত প্রচেষ্টা-শ্রম। এ সবকিছুর পেছনে কৃষকের কৃতিত্ব থাকলেও আর্থিক ক্ষতি আর অধিকার বঞ্চনা থেকে কৃষকের রেহাই মিলছে না। তারা বলেন, কৃষি পণ্যের লাভজনক মূল্যের নিশ্চয়তা বিধানে একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে পণ্যের উত্পাদন ব্যয় নির্ধারণ সাপেক্ষে বিক্রয়মূল্য ঘোষণা ও কার্যকর করতে ‘কৃষি পণ্যের জাতীয় মূল্য কমিশন’ প্রতিষ্ঠাই জাতীয় জন-মূল্য কমিশন এর লক্ষ্য। জাতীয় জন-মূল্য কমিশন এর সভাপতি ও সংসদ সদস্য শিরীন আখতার বলেন, কৃষকের বঞ্চনা দূর করতে কৃষক বান্ধব একটি সরকারের প্রতিশ্রুতি দিন এবং এই লক্ষ্যে আগামী ২১ মার্চ কৃষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান। কর্মজীবী নারীর সভাপতি প্রতিমা পাল মজুমদারের পরিচালনায় সূচনা বক্তব্য রাখেন কর্মজীবী নারীর নির্বাহী পরিচালক এবং জাতীয় জন-মূল্য কমিশন এর সদস্য সচিব রোকেয়া রফিক। আরো বক্তব্য রাখেন বিআইডিএস’র গবেষক নাজনীন আহমেদ, জাতীয় জন-মূল্য কমিশন এর সদস্য জীবনানন্দ জয়ন্ত, ভূমিহীন কৃষক সমিতির সভাপতি সুবল সরকার, জাতীয় কৃষক জোটের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, জাতীয় কৃষক লীগের সাবেক নেতা আশরাফুল হক জর্জ, ক্যাবের সভাপতি কাজী ফারুক, নরসিংদীর কৃষক কারিমা, মানিকগঞ্জের সন্ধ্যা প্রমুখ।