মাদারীপুর, চাঁদপুর, কিশোরগঞ্জ ও গাজীপুরে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ, স্কুল শিক্ষক, ইউপি সদস্যসহ সাতজন গ্রেফতার হয়েছে। মাদারীপুরে স্কুল ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে পঞ্চাশোর্ধ এক পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতারের পর চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গাজীপুরে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে স্কুল শিক্ষক। এছাড়া কটিয়াদীতে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে এক ইউপি সদস্য। জেলা প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, মাদারীপুর জেলা সদরের সৈদারবালী এলাকায় মোক্তার হোসেন (৫০) নামের এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে স্কুল ছাত্রীকে (১৬) যৌন নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্তকারী দল। এ ঘটনায় মডেল থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ঐ পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। মোক্তার হোসেনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অভিযোগ তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লা ও মনিরুজ্জামান ফকিরকে নিয়ে দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।
ঐ স্কুল ছাত্রী অভিযোগ করে, রবিবার রাতে মোক্তার হোসেন ছাত্রীটিকে তার ঘরে নিয়ে নির্যাতন করে। এলাকাবাসী ঘটনাটি আঁচ করতে পেয়ে ঘরের বাইরে থেকে দরজায় তালা মেরে সোরগোল শুরু করে দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে মোক্তার হোসেন মেয়েটিকে ঘরের ভেন্টিলেটর ভেঙ্গে বাইরে ফেলে দেয়। ফলে তার পা ভেঙ্গে যায়। রাতেই মেয়েটিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুরে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে সোহেল রানা (৪০) নামের এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে নগরীর সালনা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া সোহেল রানা দক্ষিণ সালনা এলাকার মো. জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং সালনা ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষক। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর পিতা মেট্রোপলিটন সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি ও কটিয়াদী সংবাদদাতা জানান, কটিয়াদীতে কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনায় সহায়তা করায় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া রশিদ মেম্বার (৩৫) লোহাজুরি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। গতকাল মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মে রাতে সুমন নামের এক যুবক মোবাইল ফোনে ঐ কিশোরীকে ডেকে এনে আরো দুই বন্ধু মিলে ধর্ষণ করে। অন্য দুই যুবকের নাম শোভন ও শামীম। সারারাত ধর্ষণের পর রশিদ মেম্বারের সহায়তায় তারা মেয়েটিকে অজ্ঞাত একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তিন দিন আকে রেখে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
নাগরপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, নাগরপুরে ৯ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ধর্ষক আতিকুর রহমান ওরফে রহমানকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে গাজীপুর জেলার কড্ডা বাজার থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গতকাল মঙ্গলবার রহমানকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
কচুয়া (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, কচুয়ায় ধর্ষণ মামলার দুই আসামি ফয়সল (২২) ও রাব্বিকে (১৯) পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। কচুয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে উপজেলার নাউপুরা গ্রামে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রী (১৪) ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনায় ২০ মে ঐ ছাত্রীর মা বাদী হয়ে কচুয়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ৪ যুবকের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর করা মামলায় মূল আসামি রাব্বি গ্রেফতার হয়েছে। এই মামলায় এর আগে গ্রেফতার হয় আরফিন, ইমরান ও ইউপি সদস্য ওহিদুল ইসলাম।
গত রবিবার রাব্বি (১৯) চাঁদপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করে। আদালত রাব্বির জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
ঘটনা সূত্রে যানা যায়, হাজীগঞ্জ উপজেলার ১০নং দক্ষিণ গন্ধর্ব্যপুর ইউনিয়নের ঐ কিশোরী গত ৮ মাস পূর্বে রাব্বিসহ ঐ চার ৪ যুবকের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়। ঐ ঘটনার পর এখন ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েটি।