জ্বালানি তেলের ডিপোগুলোতে অপ্রতুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা

দেশে আমদানি করা জ্বালানি তেলের নিরাপদ সংরক্ষণ ব্যবস্থা অপ্রতুল। জ্বালানি তেলের ন্যায় দাহ্য পদার্থের নিরাপত্তার জন্য যে আধুনিক ফায়ার ফাইটিং সামগ্রী দরকার তা নেই। জাহাজ থেকে পাইপ দিয়ে ট্যাংকে তেল নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা দরকার তাও অনুপস্থিত। ট্যাংক থাকা জ্বালানি তেল সরবরাহ করার সময়ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা মেনে চলা হয় না। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনসহ (বিপিসি) সংশ্লিষ্ট তেল কোম্পানির কর্মকর্তাদের মতে, তেল মজুদ ও সরবরাহের ক্ষেত্রে আধুনিক সরঞ্জামাদি খুবই নগণ্য। আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা না গেলে যে কোন সময় বড় দুর্ঘটনার আশংকা থেকে যাবে। দেশে প্রতিবছর প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় তিনটি ডলফিন জেটির মাধ্যমে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এবং স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াফিক অয়েল কোম্পানি আমদানি করা জ্বালানি তেল তাদের ট্যাংকে নিয়ে আসে। অপর তিনটি পন্টুন জেটির মাধ্যমে ট্যাংক থেকে দেশের আভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী জাহাজসমূহে তেল সরবরাহ দেয়া হয়। এই জেটিসমূহে আধুনিক অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। জানা যায়, এ সকল জেটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সচেতনতার জন্য কোন প্রশিক্ষণ দেয়া হয় না। পেট্রোলিয়াম সেক্টরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের জন্য কোন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেই। চট্টগ্রামে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকলেও প্রায় ১০ বছর পূর্বেই তা বন্ধ করে দেয়া হয়। পতেঙ্গা এলাকায় জেটি ও ট্যাংকসমূহের তদারকির জন্য নিয়োজিত কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও অবহেলা প্রায়শই দেখা যায়। জ্বালানি তেলের বিপণন কোম্পানির মধ্যে শুধু পদ্মা অয়েলের পুরাতন ফায়ার ফাইটিং যানবাহন রয়েছে। অথচ বিশ্বের অধিকাংশ তেল কোম্পানির নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং ব্যবস্থা রয়েছে। তাই অন্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ থাকে না। যমুনা অয়েল কোম্পানির দুর্ঘটনার ব্যাপারে গত মঙ্গলবার প্রকাশিত তদন্ত রিপোর্টে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন ৪ কর্মকর্তার কাজের গাফিলতির কথা উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিপিসি বিপণন কোম্পানিসমূহের কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা করছে না। জ্বালানি তেলের ৩টি কোম্পানির বোর্ডের দায়িত্বে রয়েছেন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব। তিনি ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের কাজের পাশাপাশি এই দায়িত্ব পালন করেন।