এইচএসসি পরীক্ষার জীববিজ্ঞান

যে পরিশোষণ প্রক্রিয়ায় কোন বিপাকীয় শক্তির প্রত্যক্ষ প্রয়োজন হয় না তাকে নিষ্ক্রিয় পরিশোষণ বলে ২০১৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের ক্লাসে পড়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি হোমওয়ার্কও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আগামীকাল থাকছে পৌরনীতি প্রথমপত্রের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের হোমওয়ার্ক জীববিজ্ঞান প্রথমপত্র মোহাম্মদ আক্তার-উজ জামান প্রভাষক, উদ্ভিদবিদ্যা রূপনগর মডেল স্কুল ও কলেজ, ঢাকা কনকের বাবা গ্রীষ্মের একদিনে তাদের বাড়িতে লাগানো ফুল গাছে পানি দেয়। কনক তার বাবাকে জিজ্ঞেস করে, গাছের গোড়ায় পানি দিলে গাছ কীভাবে খায়? উত্তরে তার বাবা বলেন, গাছ মূল দিয়ে পানি শুষে নেয়। আবার অতিরিক্ত পানি পাতা দিয়ে বের করে দেয়। প্রশ্ন: ক. নিষ্ক্রিয় পরিশোষণ কাকে বলে? প্রশ্ন: খ. ইনবাইবিশন বলতে কী বুঝায়? প্রশ্ন:গ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রক্রিয়া দুটি কীভাবে একটি অপরটি থেকে আলাদা? ব্যাখ্যা কর। প্রশ্ন:ঘ. প্রথম প্রক্রিয়াটি শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে— বিশ্লেষণ কর। উত্তরঃ ক. যে পরিশোষণ প্রক্রিয়ায় কোন বিপাকীয় শক্তির প্রত্যক্ষ প্রয়োজন হয় না তাকে নিষ্ক্রিয় পরিশোষণ বলে। উত্তর: খ. কলয়েড জাতীয় শুষ্ক বা আংশিক শুষ্ক পদার্থ কর্তৃক তরল পদার্থ (উদ্ভিদের ক্ষেত্রে পানি) শোষণের বিশেষ প্রক্রিয়াকে ইমবাইবিশন বলে। উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর, প্রোটোপ্লাজম ইত্যাদি কলয়েড জাতীয়, তাই এরা প্রচুর পানি ইমবাইবিশন প্রক্রিয়ায় শোষণ করতে পারে। অংকুরোদগমের আগে শুষ্ক বীজ যে পরিমাণ পানি শোষণ করে থাকে তার প্রায় সবটুকুই ইমবাইবিশন প্রক্রিয়ায় করে থাকে। উত্তর:গ. প্রথম প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ মূল দিয়ে পানি শোষণ করে। এটি অভিস্রবণ প্রক্রিয়া। আর দ্বিতীয় প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ অতিরিক্ত পানি পাতা দিয়ে বের করে দেয়। এটি প্রস্বেদনের কারণে হয়ে থাকে। নিম্নলিখিত কারণে প্রক্রিয়া দুটি একটি অপরটি থেকে আলাদা: ১. অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি কোষের বাইরের কম ঘনত্বের দ্রবণ হতে কোষঝিল্লীর মাধ্যমে বেশি ঘনত্বের দ্রবণে কোষের ভিতরে প্রবেশ করে। অপরদিকে প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ তার বায়বীয় অঙ্গের (যেমন- পাতা, কাণ্ড, লেন্টিসেল) মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি বের করে দেয়। ২. অভিস্রবণ উদ্ভিদের মূলের বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লীর মধ্যদিয়ে হয়। অন্যদিকে অধিকাংশ প্রস্বেদন হয় পত্ররন্ধ্রের মধ্যদিয়ে। ৩. অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ মাটি হতে পানি পরিশোষণ করে। অপরপক্ষে প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়। ৪. অভিস্রবণ প্রক্রিয়া একই দ্রাবকবিশিষ্ট দু’টি দ্রবণের ভিতরে হয়। আর প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় মূলত পানি বের হয়ে যায়। এখানে দ্রবণ বা দ্রাবকের ভূমিকা মুখ্য নয়। ৫. অভিস্রবণ প্রক্রিয়া প্রস্বেদনের হার নিয়ন্ত্রণ করে। আর প্রস্বেদন পরোক্ষভাবে অভিস্রবণ প্রক্রিয়া চালু রাখে। উত্তর: ঘ. প্রথম প্রক্রিয়াটি (অভিস্রবণ) উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: ১. উদ্ভিদের মূলরোম দিয়ে পানি পরিশোষণ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় হয়ে থাকে। ২. উদ্ভিদের অভ্যন্তরে এক কোষ হতে অন্য কোষে পানি প্রবেশ এ প্রক্রিয়ায় হয়ে থাকে। ৩. পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া অভিস্রবণ প্রক্রিয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় বলে এ প্রক্রিয়া প্রস্বেদনের হার নিয়ন্ত্রণ করে। ৪. কোষের স্বাভাবিক আকার ও আকৃতি ঠিক রাখা এবং কোষের বৃদ্ধিতে অভিস্রবণ প্রক্রিয়া বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ৫. উদ্ভিদের প্রায় সকল জৈবনিক কাজের জন্য পানি প্রয়োজন। এ কাজগুলো সব জীবিত কোষেই ঘটে। মূল থেকে পাতা পর্যন্ত বিভিন্ন জীবিত কোষে প্রয়োজনীয় পানি পৌঁছার পেছনে অভিস্রবণ প্রক্রিয়াই সক্রিয়। ৬. নরম কোষগুলো পানি গ্রহণ করে দৃঢ় হয়। কোষ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি গ্রহণ করে। ৭. বীজের অংকুরোদগমের সাফল্য নির্ভর করে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ার উপর।