জিন্দাপার্ক বেদখল, বছরে পঞ্চাশ লাখ টাকার রাজস্ব হাতছাড়া

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের(রাজউক) মালিকানাধীন শেখ রাসেল জিন্দাপার্ক অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে রূপগঞ্জ সচেতন নাগরিক ফোরাম। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন শেষে এক প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপ-শহরের ৩০ নং সেক্টরে রাজউক প্রতিষ্ঠিত শেখ রাসেল জিন্দাপার্কটি দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধ দখলদারদের কবলে রয়েছে। পার্কটি উদ্ধারে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ও রয়েছে। তারা অবিলম্বে সুপ্রিমকোর্টের রায় বাস্তবায়ন ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের দাবি জানান। মানববন্ধনপূর্বক সভায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আফাজ উদ্দিন খান। সভায় বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক ফোরামের সভাপতি আলী আরশেদ রাসু, বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থার সেক্রেটারি ফনিন্দ্র সরকার, মানবাধিকার সংস্থার ঢাকা জেলার সভাপিত হুমায়ুন কবির স্বপন ও ‘আমরা সত্যের পক্ষে’-এর ঢাকা জেলার সভাপতি আলহাজ্ব কামাল উদ্দিন। সভায় বক্তারা বলেন, পার্কটি অবৈধ দখলে থাকায় সরকার বছরে ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রাজউকের গাফিলতিতে গত ১০ বছরে এ পার্ক থেকে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে ৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থ বছরেও একইভাবে সরকার ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে চলেছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)১৯৯২-৯৩ অর্থ বছরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ৬ হাজার ৫৫১ একর জমি অধিগ্রহণ করে পূর্বাচল উপ-শহর নির্মাণের কাজ হাতে নেয়। একই সঙ্গে রূপগঞ্জ প্রকল্পের কামতা মৌজায় ৩০ একর জমিতে বিনোদন কেন্দ্র শেখ রাসেল (রাজউক) পার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত ২০১১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারির পর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পার্কটি পরিচালনার জন্য রাজউক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করে। বাধাগ্রস্ত করতে জিন্দা গ্রামের বাসিন্দা তবারক হোসেন কুসুম (পার্কের সভাপতি দাবিদার) ২০১১ সালে আদালতে একটি রিট পিটিশন করেন। শুনানি শেষে ওই বছর ২৫ আগস্ট আদালত রিট পিটিশন খারিজ করে দেয়। ফলে ৫ সেপ্টেম্বর রাজউক পার্কটি বৈধ দরপত্রের মাধ্যমে মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্টকে দুই বছরের জন্য ইজারা প্রদান করে। এরপর স্থানীয় সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালীদের সমন্বয়ে পার্কটি অবৈধ দখলে নেয়ার পাঁয়তারা শুরু করে। এক পর্যায়ে পার্কের ইজারাদার মোশারফ হাসান বাবু রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিযোগ করেন। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী মুকুল মিয়া বাদী হয়ে ২০১৩ সালের ১০ জুন তবারক হোসেন কুসুমকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার না করায় আসামিরা মামলার বাদী ও ইজারাদারকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করছে বলে সভায় অভিযোগ করা হয়। এ ব্যাপারে তবারক হোসেন কুসুম বলেন, আদালত পিটিশনটি খারিজ করে দেয়ার পর গত ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়েছে। অন্যদিকে চলতি বছর ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলাটি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ থেকে খারিজ করে দেয়া হয়। এরপর রাজউক ২৭ ফেব্রুয়ারি অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য নোটিস প্রদান করেন। সেই অনুযায়ী গত ২ মার্চ উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কথা ছিল। অজ্ঞাত কারণে তা আর হয়নি।