নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ মানতে নারাজ প্রণব

বিরোধী দলগুলো নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রতি পক্ষ-পাতিত্বের অভিযোগ আনলেও তা মানতে নারাজ ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও কংগ্রেস    নেতা প্রণব মুখার্জি। তার মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, ‘নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা হয়’।

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের সাত ধাপের ভোটগ্রহণ ১৯ মে শেষ হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার ভোট গণনা হবে। এরই মধ্যে কমিশনের বিরুদ্ধে ইভিএমের অস্বচ্ছতা ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে না পারার অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। কমিশনকে পক্ষপাতদুষ্ট বলেও মন্তব্য করছে তারা। কংগ্রেসসহ বিভিন্ন বিরোধীদলের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন প্রণব মুখার্জি। সোমবার নয়াদিল্লিতে এনডিটিভির এডিটোরিয়াল ডিরেক্টর সোনিয়া সিং-এর লেখা একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমরা যদি দেশের সাংবিধানিক সংস্থাগুলোকে শক্তিশালী করতে চাই তাহলে মনে রাখতে হবে এ ধরনের সংস্থা আসলে দেশের কাজে লাগে। দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যদি সাফল্য পেয়ে থাকে তাহলে তার সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে নির্বাচন নির্বিঘ্নে আয়োজন করতে পারার বিষয়টি। সে ব্যাপারে সুকুমার সেন (ভারতের প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার) থেকে শুরু করে এখনকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার সকলেরই ভূমিকা রয়েছে। তারা নিজেদের কাজ ঠিক করে পালন করছেন। তাদের সমালোচনা করা যায় না। নির্বাচন আয়োজনে কোনো রকম ত্রুটি হয়নি। দেশের সংস্থাগুলি নিজেদের মতো কাজ করছে। দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় সেগুলি আরো সমৃদ্ধ হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, যার কাজের দক্ষতা নেই সে যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জাম নিয়ে প্রশ্ন তোলে। যার কাজের দক্ষতা আছে, সে জানে কোন যন্ত্রকে কীভাবে ব্যবহার করতে হয়।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে একাধিকবার কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী ছিলেন প্রণব। ২০১২ সালে ভারতের ১৩তম রাষ্ট্রপতি হন তিনি। এরপর রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর নেন। প্রণব এমন সময়ে নির্বাচন কমিশন নিয়ে মন্তব্য করলেন যখন কংগ্রেস প্রধান রাহুল গান্ধী ও অন্য বিরোধী নেতারা বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদির পক্ষে কাজ করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে দোষারোপ করছে। খবর:আনন্দবাজার পত্রিকার।