দিন গড়াচ্ছে, আর সামনের দিকে এগিয়ে আসছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের রোমাঞ্চ। সময়ের সেরা এবং সবচেয়ে অভিজ্ঞতাপূর্ণ দল নিয়ে ষষ্ঠবার বিশ্বকাপ খেলবে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের মাটিতে এবারের আসরে অতীতকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চিন্তাকে পাখির চোখ করেই এগুচ্ছে টাইগাররা। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বাংলাদেশ দলের প্রতি সমর্থকদের প্রত্যাশার পারদ কয়েকগুণ উঁচুতে উঠে গেছে।
ত্রিদেশীয় সিরিজে শিরোপা জয়ের ইতিহাস গড়ার পর চারদিনের ছুটিতে দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছেন, বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলাই বাংলাদেশের প্রাথমিক টার্গেট। একান্ত আলাপে গতকাল তিনি বলেছেন, আয়ারল্যান্ডে ট্রফি জিতলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের জন্য বড়সড়ো চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
আজ বুধবার সকালেই আবার লন্ডনে পাড়ি জমাবেন মাশরাফি। বিশ্বকাপে নিজের মনের কল্পনা সম্পর্কে নড়াইল এক্সপ্রেস বলেন, ‘আমার নিজস্ব কোনো কল্পনা নাই। নিজেদের সর্বোচ্চ উজাড় করে খেলতে পারলে দল সেমিফাইনালে যাবে, ইনশাল্লাহ।’
শেষ চারের ওই পথটুকু অধিনায়কের চোখে এমন, ‘সেমিফাইনালের পর আপনার নির্দিষ্ট দিনের উপর নির্ভর করবে। ওই দিনে আপনি কেমন খেলছেন। এসব কারোরই আগে ভাবার সুযোগ নাই। সেমিফাইনাল পর্যন্ত আপনাকে প্রতি ম্যাচ ধরে ধরে এগুতে হবে। ’
ত্রিদেশীয় সিরিজ জেতার পর বাংলাদেশ দল এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী। এমন জ্বালানি পাওয়ার পর বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সুযোগ-সম্ভাবনা নিয়ে মাশরাফি বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ যেমন পুরোপুরি ভিন্ন মঞ্চ, ভিন্ন ভিন্ন দল, তেমনি পুরোপুরি ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকাপে অনেক হাই স্কোরিং ম্যাচ হবে। সব টিমই চাইবে তাদের সেরাটা খেলার। আর এই টুর্নামেন্টের উত্তেজনা আরো বেশি।’
দেশের ১৬ কোটি মানুষের আশা-ভরসার প্রতিনিধি হয়ে বিশ্বকাপের ময়দানে লড়বেন সাকিব-তামিমরা। সমর্থকদের প্রত্যাশার ভার নিয়ে মাশরাফি বলেছেন, ‘আমি প্রত্যাশা যত বাড়াই বা কমাই, এতে কিছুই আসবে-যাবে না। আমরা যদি এই টুর্নামেন্ট বাজেভাবেও হারতাম, মানুষ একই প্রত্যাশা নিয়ে বসে থাকতো। এটা আমার গত ১৮-২০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। একটা সময় দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা চাইতো, জিতলে তো ভালো; হারলে যেন লড়াই করে হারে। গত ৫-৭ বছর থেকে তারা প্রতিটি খেলায় জয় পাওয়ার প্রত্যাশ নিয়ে খেলা দেখতে বসে, সে প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন। তাই আয়ারল্যান্ডে সিরিজ না জিতলেও প্রত্যাশার পরিবর্তন হতো না।’
প্রচুর রান হবে বিশ্বকাপে। কন্ডিশনে অনভ্যস্ত বলে বাংলাদেশের মিশনটা কঠিন হবে বলেই ধারণা অধিনায়কের। তবে এসব চ্যালেঞ্জ উতরে যেতে পারলেই সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি আসবে। এজন্য মাশরাফির পরামর্শ, বোলারদের ওভারপ্রতি ছয়ের বেশি রান দেওয়া যাবে না এবং ব্যাটসম্যানদের ৩০০র বেশি রান তাড়া করা এবং নিজেরা করার মানসিকতা রাখতে হবে।