যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি
মস্কোর ওপর অবরোধ আরোপ বুমেরাং হবে
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০১৪, ২২:৫৬
ইউক্রেন সংকটকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র যেসব নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তাতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সাথে এক ফোনালাপে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এ সময় তিনি রুশ-মার্কিন সম্পর্কে খারাপ প্রভাব পড়ে এমন কোন পদক্ষেপ না নেয়ার কথা বলেন। এদিকে, বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে লাভরভকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ভূ-রাজনৈতিক কারণে কৃত্রিমভাবে ইউক্রেনের সংকট তৈরি করা হয়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু কিয়েভ কট্টর ডানপন্থি। তিনি বলেন, পশ্চিমারা যদি সততা ও অংশীদারির মনোভাব দেখায় তবে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি আছে রাশিয়া। অন্যদিকে, ইউক্রেনের অন্তর্বর্তী পররাষ্ট্র মন্ত্রী এন্ড্রি দেশচিতসিয়া বলেছেন, রাশিয়ার আলোচনায় আসার মতো ইতিবাচক লক্ষণ দেখছেন।
এদিকে, বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপোল শহরের বাইরে ইউক্রেনের সামরিক ঘাঁটি থেকে কিছু দূরে রুশ ও ইউক্রেনের সেনারা কোন গুলি বিনিময় ছাড়াই পাশাপাশি অবস্থান করছে। যদিও ক্রিমিয়ার রুশপন্থি একজন নেতা স্থানীয় গণমাধ্যমে বলেছেন, সেখানে সবকিছুই শান্ত, কোন আক্রমণের ঘটনা ঘটেনি এবং আত্মরক্ষার্থেও কোন গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেনি।
বিবিসির সংবাদদাতা জানান রাশিয়ার ‘ব্ল্যাক সী ফ্লিট’ নৌঘাঁটির গেইট থেকে তিনি দুই ট্রাক ভর্তি সশস্ত্র সেনাদের আসতে দেখা গেছে। কিন্তু ঘাঁটিটি দখল করা হয়েছে এমন কোন লক্ষণ তিনি দেখতে পাননি এবং গোলাগুলির কোন আওয়াজও তারা শুনতে পাননি। অন্যদিকে ক্রিমিয়ায় বিক্ষিপ্ত সহিংসতার ঘটনা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। ক্রিমিয়ায় সশস্ত্র গ্রুপগুলো ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন ধরনের মালামাল লুটপাট করা শুরু করেছে। এমনকি তারা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের কাছ থেকেও তাদের যন্ত্রপাতি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। আর পেন্টাগন বলছে, তাদের ধারণা ক্রিমিয়া উপদ্বীপে প্রায় ২০ হাজার রুশ সেনা অবস্থান করছে।
এমন পরিস্থিতিতে রুশ জ্বালানি সরবরাহকারী কোম্পানি গাযপ্রোম ইউক্রেনকে হুঁশিয়ার করে বলেছে যে, ইউক্রেন বকেয়া বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে গ্যাস সরবরাহ আবারো বিচ্ছিন্ন করা হবে। গাযপ্রোমের কর্তৃপক্ষ বলছে, ইউক্রেনের বকেয়া বিলের পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। ইউক্রেনের পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনেও উত্তপ্ত পরিবেশ অব্যাহত রয়েছে।