দশম শ্রেণির ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং

দ্বাদশ অধ্যায়ের অতিরিক্ত সৃজনশীল প্রশ্ন: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রতিষ্ঠা করা হয় গ্রাহক সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য যাতে তারা প্রচুর মুনাফা অর্জন করতে পারে। ”কর্ক ব্যাংক” সে উদ্দেশ্য গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান যা বাণিজ্যিক হিসাবে নিবন্ধিত। সাধারণত বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাথে গ্রাহকের সম্পর্কের ধারন থাকে দাতা-গ্রহীতা, ডেটর-ক্রেডিটর,ব্যাংক-মক্কেল ইত্যাদি। এ ব্যাংক সব সময় চেষ্টা করে গ্রাহকের সন্তুষ্টি ধরে রাখতে যাতে গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ক) ব্যাংকিং ব্যবসায়ের মূলমন্ত্র কী? খ) মক্কেল চেক অঙ্কনে কী সর্তকতা অবলম্বন করবে। গ) তোমার মতে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্পর্েকর ধরন কেমন হবে?ব্যাখ্যা কর। ঘ) ’গ্রাহকের সন্তুষ্টি ধরে রাখতে হলে গ্রাহককে সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করতে হবে’ উক্তিটি বিশ্লেষণ কর। উত্তর ক) জ্ঞান: ব্যাংক ও গ্রাহকের আস্থা ও বিশ্বাসই ব্যাংকিং ব্যবসার মূলমন্ত্র যা ব্যাংকিং ব্যবসায়ের ভিত্তিমূল ও বটে। খ) অনুবাধন: মক্কেল চেক অঙ্কনে সর্তকতা এবং নিয়ম-কানুন মেনে চলবে।যেমন: সঠিক স্বার্থরক্ষা হতে হবে, তারিখ সঠিক হতে হবে, চেকে লিখিত টাকা হিসাবে জমা থাকতে হবে ইত্যাদি। চেক বলতে আমানতকারী কর্তৃক ব্যাংকের লিখিত আদেশ বুঝে থাকি। গ) প্রয়োগ: ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্পর্ক নিম্নরূপ হওয়া দরকার: ডেটর-ক্রেডিটর সম্পর্ক: ব্যাংক ও তার গ্রাহকের সম্পর্ক ডেটর-ক্রেডিটর,গ্রাহক যখন ব্যাংকের কাছে টাকা জমা দেয় তখন ব্যাংক ডেটর এবং গ্রাহক ক্রেডিটর হয়। চুক্তিবদ্ধ সর্ম্পক: হিসাব খোলার মধ্য দিয়ে আইনগতভাবে ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে একটি চুক্তিবদ্ধ সর্ম্পক সৃষ্টি হয়।এতে করে দুই পক্ষই কিছু অধিকার ও দায়িত্ব সৃষ্টি হয়। ব্যাংক গ্রাহকের অছি : ব্যাংক অনেক সময় তাদের গ্রাহকের সম্পত্তি যথা:স্বর্ণালংকার,দলিলপত্র ইত্যাদি সংরক্ষণের মাধ্যমে তাদের অছি হিসাবে কাজ করে থাকে। ব্যাংক গ্রাহকের প্রতিনিধি: গ্রাহকের পক্ষে দেনা পরিশোধ ও পাওনা আদায়ের মাধ্যমে ব্যাংক গ্রাহকের প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করে থাকে। ঘ) উচ্চতর দক্ষতা: ব্যাংকিং ব্যবসার মূলনীতি অনুযায়ি গ্রাহকের স্বার্থরক্ষা ব্যাংকের একটি অবশ্যই পালনীয় পবিত্র দায়িত্ব। ১) অর্থ ফেরত: সাধারণভাবে ব্যাংক গ্রাহককে টাকা চাহিবামাত্র ফেরত দিতে বাধ্য থাকে। তবে এটা হবে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সম্পাদন হতে হবে। যেমন: চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবে যদি টাকা জমা থাকে গ্রাহক চেক লিখে টাকা তুলতে পারে। ২) হিসাবের গোপনীয়তা: গ্রাহকের নির্দেশ,বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ, আইনগত অনুমতি বা আদালতের নির্দেশ ছাড়া ব্যাংক গ্রাহকের হিসাব সর্ম্পকিত তথ্য প্রকাশ করতে পারবেনা। ৩) সুদের আদান ও প্রদান ও সেবার ফি: ব্যাংক তার মক্কেলের প্রাপ্য সুদ স্বয়ংক্রিয়বভাবে তার হিসাবে জমা করে। ৪) সুবিধজনকভাবে ঋণ পরিশোধের সুযোগ প্রদান: ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্রহীতাকে যথাযথভ সুবিচার করবে এবং ঋণ পরিশোধের জন্য উপর্যুক্ত সময় ও সুযোগ প্রদান করবে। তাই বলা যায় উপরিউক্ত দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করলে গ্রাহকের সন্তুষ্টি ধরে রাখা সম্ভব হবে।