সিলেট নগরীতে অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ শুরু

সিলেট নগরী ছেয়ে যাওয়া অবৈধ বিল বোর্ড উচ্ছেদ অবশেষে শুরু হয়েছে। এসব বিল বোর্ড আর ব্যানার-ফেস্টুনের কারণে পর্যটন নগরীর সৌন্দর্য্যও যেমনি ম্লান হয়ে আছে তেমনি কর্পোরেশন লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত রয়েছে। যত্রতত্র সাইনবোর্ড, পোস্টার সাঁটিয়ে দেয়া হয়েছে এই নগরীতে। কোন নিয়ম-কানুনেরও বালাই নেই। নগরীর বন্দর বাজার, জিন্দাবাজার, আম্বারখানা, চৌহাট্টা, রিকাবি বাজার, সুবিদবাজার, মদীনা মার্কেট, আম্বরখানা, কুমারপাড়া, ঈদগাহ, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, দক্ষিণ সুরমা, রেলস্টেশন এলাকা, উপশহরসহ বিভিন্ন এলাকার চিত্র হতশ্রী। একটি সাইন বোর্ডের উপর আরেকটি বিল বোর্ডের সাঁটিয়ে দিলেও যেন কারো কিছু যায় আসে না। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়েছে এই সিটি কর্পোরেশনে এসব দেখারও যেন কেউ নেই। দীর্ঘদিন থেকে এসব উচ্ছেদের দাবি। কিন্তু স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে তা উচ্ছেদ হয় না। তবে এবার দীর্ঘদিন পরে হলেও যেন সিটি কর্পোরেশনের ঘুম ভেঙ্গেছে। আর সেটি হচ্ছে আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে। আগামী ১৮ মার্চ থেকে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাচ্ছে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলা। এই খেলার উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছে নগরীর সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ নানা কর্মকাণ্ড। সূত্র মতে, এই নগরীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিলবোর্ড আছে প্রায় ছয় হাজার। এর মধ্যে পাঁচ হাজারই অবৈধ। সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) কোন অনুমোদন নেয়া হয়নি এগুলো স্থাপন করতে। এতে বছরের পর বছর সিটি কর্পোরেশন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত । আর এসব অবৈধ বিলবোর্ড স্থাপন হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে। বিভিন্ন সময় এ নিয়ে কথা উঠলেও অদৃশ্য হাতের ইশারায় থেমে যায় উচ্ছেদ প্রক্রিয়া। তবে এবার আইসিসি টি-২০ ওয়ার্ল্ড কাপ উপলক্ষে নগরীর অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযানে নেমেছে সিসিক। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানান, নগরীতে অবৈধ বিলবোর্ডের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। এতে মাসে কয়েক কোটি টাকা আয় থেকে বঞ্চিত সিসিক। লোকবল সংকটের কারণে এত দিন অবৈধ বিলবোর্ডগুলো উচ্ছেদ করা যায়নি। বিশ্বকাপ উপলক্ষে নগরীর সৌন্দর্য্য বর্ধনের লক্ষ্যে অবৈধ সব বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।