নকলায় বাল্য বিয়ের আসর ছেড়ে বরের পলায়ন
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০১৪, ২১:২২
বিয়ের সকল আয়োজন সম্পন্ন। বর তার আত্মীয়-স্বজন নিয়ে কনে বাড়িতে হাজির। খাওয়া-দাওয়ার পর্বও শেষ হয়েছে। কেবল বিয়েটা পড়ানো হবে। এমন সময়ই হাজির প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট দেখেই বিয়ের আসর ছেড়ে দৌড়ের পালায় বর এবং তার পক্ষের লোকজন।
এভাবেই বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে দশম শ্রেণী পড়ুয়া চৌদ্দ বছর বয়সী এক বালিকা। শেরপুরের নকলা উপজেলার ভুর্দি সাতানীপাড়া গ্রামে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনাটি ঘটে। নকলা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সারওয়ার আলমের তত্পরতায় এ বাল্যবিয়েটি ভণ্ডুল হয়ে যায়। ভুর্দি সাতানীপাড়া গ্রামের আব্দুল মিয়ার মেয়ে শামীমা আক্তারের (১৪) সাথে শেরপুর সদরের আন্ধারিয়া গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে ব্যবসায়ী উজ্জল মিয়ার (২২) পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক হয়। শামীমা বানেশ্বর্দী হাইস্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। শুক্রবার ওই বিয়ের দিন ধার্য ছিল। বাল্যবিয়ে হওয়ায় পাত্র ও পাত্রীপক্ষ কনের বাড়িতে অনেকটা গোপনেই বিয়ের কাজটি সারছিল।
স্থানীয় একটি সূত্রে বাল্যবিয়ের এ সংবাদটি পেয়েই শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ নিয়ে হাজির হন ইউএনওর দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সারওয়ার আলম। পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আগমন টের পেয়েই বিয়ের আসর ছেড়ে বর এবং তার আত্মীয়-স্বজনরা পালিয়ে যান। এসময় মেয়ের বাবা আব্দুল মিয়াকে আটক করা হয়। পরে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে মেয়েকে বিয়ে দেবেন না এমন মুচলেকায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।