থাইল্যান্ডে আপাতত ব্যর্থ ‘ঝগড়াতন্ত্র’

থাইল্যান্ডে গত কয়েক মাস ধরে প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার পদত্যাগের এবং একটি অনির্বাচিত কাউন্সিলের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার দাবিতে প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্র্যাট পার্টির সমর্থক বিক্ষোভকারীরা টানা আন্দোলন করে আসছে। মাঠের আন্দোলন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে গণতন্ত্রের স্বার্থে পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেন ইংলাক সিনাওয়াত্রা। অথচ সংবিধান অনুযায়ী আরো দুই বছর ক্ষমতায় থাকার অধিকার তার ছিল। পার্লামেন্ট ভেঙ্গে নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ায় বিক্ষোভকারীরা আরো মরিয়া হয়ে ওঠে। তাদের ধারণা ছিল ইংলাককে ক্ষমতাচ্যুত করে নিজেদের মতো করে সংবিধান সংশোধন করে নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে। সেই অনুযায়ী তারা উঠে পড়ে লাগে। তাদের সাথে যোগ দেয় লাখো উত্সাহী মানুষ। অনেকটা উত্সবমুখর পরিবেশে তারা সরকারবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে থাকে। এরপর নির্বাচন পন্ড করার জন্য তারা মরিয়া চেষ্টা চালায়। মনোনয়নপ্রার্থীদের বাধা দিতে সহিংস আচরণ শুরু করে। কোনঠাসা পরিস্থিতিতে পড়ে ইংলাকও চলে যান কঠোর অবস্থানে। তিনি নির্বাচন কোনো অবস্থাতেই পেছাবেন না বলে ঘোষণা দেন। অপরদিকে, নির্বাচন বর্জন করা বিরোধী দল কোনো অবস্থাতেই নির্বাচন করতে দেবে না বলে ঘোষণা দেয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যদিও কিছুটা সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের ‘ঝগড়া’ দিন দিন বেগবান হতে থাকে। বিক্ষোভকারীরা ব্যাংকক অচল শিরোনামে অবরোধ কর্মসূচি পালন শুরু করে। দুই দলের ‘ঝগড়া’ আরো তীব্র আকার ধারণ করে যখন ইংলাকের দলের কট্টোর সমর্থকরা মাঠে নেমে পড়ে। অবরোধ কর্মসূচির মধ্যে বিভিন্ন স্থানে কয়েক দফায় চালানো হয় গ্রেনেড হামলা। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়। নিজেদের দাবি অগণতান্ত্রিক ও অগ্রহণযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও বিরোধী দল তার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যায়। কিন্তু দাবি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বুঝতে পেরে এক পর্যায়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা কমতে কমতে মাঠ প্রায় ফাঁকা হয়ে যেতে থাকে। একারণে কয়েকদিন আগে সম্মান বাঁচাতে ব্যাংকক অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন বিক্ষোভকারীদের নেতা সুথেপ থগসুবান। থাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সুথেপের এই ঘোষণা নিয়ে নানারকম ব্যাখ্যা করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল থাইল্যান্ডে গণতন্ত্রের পরিবর্তে ‘ঝগড়াতন্ত্র’ চালু করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আপাতত তারা সফল হয়নি। তাদের মতে, দাবির পেছনে শক্ত নীতি না থাকলে তা আদায় করা কঠিন। বিরোধী দলের দাবির শক্ত ভিত ছিল না। তাদের এই ঝগড়ার বলি হয়েছে কিছু সাধারণ মানুষ যারা গ্রেনেড, বোমা ও বন্দুকের গুলিতে প্রাণ দিয়েছে। তারা বলছেন, দুই দলের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছিল তারা থাইল্যান্ডকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন। কিন্তু যে কারণেই হোক আপাতত ব্যর্থ হয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সব দল বিষয়টি বুঝতে পেরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান করবে। অগণতান্ত্রিকভাবে সরকার পতনের এবং নির্বাচনে না গিয়ে ক্ষমতার স্বাদ পাবার আকাঙ্ক্ষাকে ঠাঁই দিয়ে সম্ভাবনাময় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করবেন না। আমরা ইংলাকের সমর্থক কিংবা আমরা ইংলাকের বিরোধী -এমন শ্লোগান দিয়ে কেউ আর সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা দখলের সুযোগ করে দিবে না কিংবা রাজপথকে রক্তে ভেজাবে না। তারা আরো আশা প্রকাশ করেছেন, বর্তমানে ব্যাংককে যে শান্তি বিরাজ করছে তা বজায় থাকবে। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেই শুধু সরকার ভাঙা-গড়া হবে। সূত্র ব্যাংকক পোস্ট।