নারী আসনে ৫০ জনের মনোনয়ন দাখিল

দশম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৫০ জন প্রার্থী মনোনয়পত্র জমা দিয়েছেন। গতকাল রবিবার মনোনয়ন জমার শেষদিনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে যুগ্ম সচিব ও সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা জেসমিন টুলীর কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের ৪১ জন, জাতীয় পার্টির ৬ জন এবং স্বতন্ত্র জোটের ৩ জনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়। ১৬ জন স্বতন্ত্র সদস্য মিলে স্বতন্ত্র জোট গঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা জমা দেন। এ জোটে আওয়ামী লীগ ছাড়াও আছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ও জাতীয় পার্টি-জেপি। জাতীয় পার্টির পক্ষে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী ৬ জনের মনোনয়নপত্র জমা দেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিজেরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সংসদে প্রতিনিধিত্ব আছে এমন দল ও স্বতন্ত্র জোট নির্বাচন কমিশনে প্রার্থী তালিকা জমা দিয়েছে। কোটার অতিরিক্ত নাম জমা না দেয়ায়, যাদের নাম তালিকায় আছে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হচ্ছেন। ঋণ খেলাপি বা অন্য কোনো কারণে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল ও প্রত্যাহার করা হলে পুন:তফসিল ঘোষণা করবে কমিশন। এব্যাপারে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানান, কেউ ঋণ খেলাপি আছেন কিনা ব্যাংকগুলোর কাছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। কারো বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপিসহ মনোনয়ন বাতিল হওয়ার মতো অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুনঃতফসিল অনুযায়ী ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট হবে আগামী ৩ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই হবে ১১ মার্চ এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ মার্চ। সংরক্ষিত মহিলা আসনে গেজেট অনুযায়ী ২৯৭ টি আসনের আনুপাতিক হারে আওয়ামী লীগ ৩৯, ওয়ার্কার্স পার্টি ১, জাসদ ১, জাতীয় পার্টি ৬ এবং স্বতন্ত্র জোট ৩টি আসন পাচ্ছে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল গেজেটে প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা আছে। কোন দল বা জোট প্রতি ৬টি আসনের জন্য ১টি মহিলা আসন পাবে। আওয়ামী লীগের ৩৯ জন হলেন শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ মনোনীত ৩৯ জনের তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সুচিত্রা তংঞ্চঙ্গ্যাঁর পরিবর্তে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে আমিনা আহমেদকে। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত ৩৯ জন হলেন সেলিনা জাহান লিটা, অ্যাডভাকেট সফুরা বেগম রুমী, অ্যাডভোকেট হোসেনে আরা লুত্ফা ডালিয়া, অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি, বেগম আখতার জাহান, সেলিনা বেগম স্বপ্না, সেলিনা আখতার বানু, লায়লা আরজুমান বানু, শিরিন নাঈম (পুনম), কামরুল লায়লা জলি, হেপী বড়াল, রিফাত আমিন, নাসিমা ফেরদৌসী, আলহাজ্ব মিসেস লুত্ফুন্নেছা, মমতাজ বেগম অ্যাডভোকেট, অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, মনোয়ারা বেগম, মাহজাবিন খালেদ, ফাতেমা জোহরা রানী, আলহাজ্ব দিলারা মাহবুব আসমা, ফাতেমা তুজ্জহুরা, ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, পিনু খান, সানজিদা খানম, সাবিনা আক্তার তুহিন, রহিমা আক্তার, অ্যাডভোকেট হোসনে আরা (বাবলী), কামরুন নাহার চৌধুরী (লাভলী), নীলুফার জাফর উল্লাহ, রোখসানা ইয়াসমিন ছুটি, অ্যাডভোকেট নাভানা আক্তার, আসমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, শামছুন নাহার বেগম অ্যাডভোকেট, ফজিলাতুন নেসা বাপ্পী, ওয়াসিফা আয়শা খান, জাহানারা বেগম সুরমা, সাবিহা নাহার বেগম (সাবিহা মুসা), ফিরোজা বেগম চিনু ও আমিনা আহমেদ। এবার নারী আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য ৮২২ জন আবেদন করেছিলেন। তাদের মধ্য থেকে এই ৩৯ জনকে বাছাই করে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড। জোটের দুইজন হলেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষে আরো যে দুইজন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তারা হলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির হাজেরা খাতুন ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কর্নেল তাহেরের স্ত্রী লুত্ফা তাহের। জাতীয় পার্টির ৬ জন হলেন জাতীয় পার্টি-জাপার ৬ প্রার্থী হলেন-বেগম নূর-ই হাসনা লিলি চৌধুরী, মাহজাবীন মোরশেদ, মেরিনা রহমান, রওশন আরা মান্নান, শাহানারা বেগম এবং খোরশেদ আরা হক। স্বতন্ত্র ৩ জন হলেন ৩ জন স্বতন্ত্র মনোনয়ন দাখিলকারী হলেন কাজী রোজি, এডভোকেট নূরজাহান বেগম (মুক্তা) ও এডভোকেট উম্মে রাজিয়া কাজল। এদিকে সংক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের ঋণ খেলাপের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ১১ মার্চের মধ্যে প্রার্থীদের তথ্য চেয়ে বৃহস্পতিবার ইসিতে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি)।