ঢাকা মেডিক্যালে সফল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লানটেশন
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০১৪, ২১:৩৩
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে সফলভাবে ‘বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লানটেশন’ (অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন) হয়েছে। সোমবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক এমএ খান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের চিকিত্সক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডা. বিমলাংশু দে’র নেতৃত্বে চিকিত্সকদের একটি দল এই প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করে। পরে বিকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, সফলভাবে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লানটেশন সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশে চিকিত্সা বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি মাইলফলক স্থাপিত হলো।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোগীর প্রাইভেসির কথা বিবেচনায় রেখে আমরা জানাতে চাই, ‘মাল্টিপল মায়োলোমা’ নামক ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ৫২ বছর বয়সী একজন পুরুষের দেহে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লানটেশন করা হয়েছে। রোগী একজন ব্যাংক কর্মকর্তা। ‘বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লানটেশন’ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান মোহাম্মদ নাসিম।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যত ধরনের ক্যান্সার রয়েছে তার শতকতা ১১ দশমিক ০৪ ভাগ ব্লাড ক্যান্সার। বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লানটেশন এ রোগের নিরাময়যোগ্য চিকিত্সা। তিনি বলেন, দেশে যাতে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লানটেশনের ব্যবস্থা করা যায় সেজন্য আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। নবনির্মিত ‘ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-২’ এ দেশের প্রথম বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লানটেশন ইউনিট প্রতিষ্ঠা সেই প্রচেষ্টার একটি সফল অধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত পাঁচ বছরে স্বাস্থ্যখাতে যে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হয়েছে ‘বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লানটেশন ইউনিট’ তার একটি উজ্জ্বল মাইলফলক। তিনি বলেন, এ কর্মসূচির শুরু থেকেই আমাদের সাথী হয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের চিকিত্সক, প্রকৌশলী, স্থপতি, নার্স, টেকনোলজিস্ট সমন্বিত একটি হূদয়বান দল এবং ‘গ্লোবাল হেলথ নামক একটি বিশ্বখ্যাত দাতা সংস্থা। তাদের অবদান বাঙালি জাতির কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ডা. বিমলাংশু দে বলেন, এই বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লানটেশনে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিজ্ঞ টিমের সঙ্গে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের হেমাটোলজি বিভাগের ডাক্তার, নার্সরা হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। এই দেশে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লানটেশনের মধ্য দিয়ে ধনী লোকদের এই রোগের জন্য আর বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।