সীতাকুণ্ডে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ আতঙ্কিত হয়ে বৃদ্ধার মৃত্যু

সীতাকুণ্ডে ঘুমন্ত এক যুবককে গ্রেফতার করাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে এক বৃদ্ধা মারা গেছেন। সংঘর্ষে পুলিশ-জেলেসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। পুলিশ গ্রেফতার যুবককে ইয়াবা ব্যবসায়ী দাবি করলেও স্থানীয়রা বলছেন সে মাছ ধরে জীবন-যাপন করা এক সাধারণ জেলে।

এলাকাবাসী জানায়, গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় কুমিরা ঘাটঘর জেলেপাড়ায় নিরপরাধ ঘুমন্ত রুবেল দাশকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় জেলেপাড়ার লোকজন গ্রেফতারের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জেলেরা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। পুলিশের লাঠিচার্জ দেখে বেলাম্বু দাশ (৫৮) নামে এক নারী আতঙ্কে মারা যান। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলেরা পুলিশকে ঘিরে ফেলে। এ সময় পুলিশ ফাঁকা গুলি ও রাবার বুলেট ছুড়তে থাকে।

জেলে সম্প্রদায়ের সর্দার নতুন দাশ জানান, পুলিশ বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। নারীদেরও মারধর করেছে। এমনকি  শ্লীলতাহানীরও চেষ্টা চালায়। পুলিশ এক তরুণীকে কোলে করে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। টয়লেটে ঢুকে বাঁচার চেষ্টা করলেও পুলিশ দরজা ভেঙে টেনে হেঁছড়ে নারীদের ধরে এনে মারধর করে। রুবেল মাছ ধরে। সে কোনো রকম দিনযাপন করে। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা নেই। পুলিশ প্রতিদিন জেলেপাড়ার ২/৩ জন নিরপরাধ ছেলেকে ধরে ১০/২০ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। পুলিশের এ অত্যাচারের বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই। মৃত বেলাম্বু দাশের স্বামী সন্ধ্যা জলদাশ জানান, আমরা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির কাছে এ ঘটনার বিচার চাই। আহতরা হলেন— রাজু, সঞ্জয়, গুলিবিদ্ধ প্রকাশ দাশ (৮৫), গুলিবিদ্ধ মতিলাল দাশ (৮০) প্রমুখ। এ ঘটনায় ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। কুমিরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. মোরশেদ হোসেন জানান, পুলিশ ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ধরতে গেছে শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে জেলেদেরকে শান্ত করতে না পেরে চলে আসি।

 এ ব্যাপারে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. দেলওয়ার হোসেন বলেন, ঘাটঘর এলাকাটি একটি ইয়াবার টার্নিং পয়েন্ট। আমরা ওই এলাকায় হাতে নাতে একজনকে ধরলে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর হামলা করে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।