বীজসংরক্ষণ আইন প্রণয়ন করুন

সরকারি পর্যায়ে বিএডিসি প্রতিবছর যে পরিমাণ বীজ আলু উত্পাদন করে তা দিয়ে সীমিত চাহিদাই পূরণ হচ্ছে। বরং এক্ষেত্রে অবদান রাখছে টিস্যুকালচার পদ্ধতিতে ব্যক্তি পর্যায়ে উত্পাদিত বীজ আলু। বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বীজ উত্পাদন করার বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি বিভাগ বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির মাধ্যমে। টিস্যু থেকে উত্পাদিত এই বীজ আলুর পরবর্তী দু’প্রজন্ম পরের আলুই সাধারণ কৃষকগণ খাবার আলুর বীজ হিসাবে রোপণ করছেন এবং তা থেকেই হচ্ছে আজকের বাম্পার আলুর ফলন। কিন্তু বাংলাদেশে হিমাগারে বীজ আলু সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা নেই। ফলে বীজ আলু উত্পাদনকারী কৃষকগণ হিমাগার মালিকদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকছেন। এখানে উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গত বছরের শেষদিকে ইত্তেফাকসহ সকল জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ-নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার একজন বীজ উত্পাদক তার উত্পাদিত ১৫২ মেট্রিক টন বীজ আলু স্থানীয় একটি হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। ২০১৩ সালের জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির কর্মকর্তাগণ ঐ হিমাগারে বীজ পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পান ৩৭ মেট্রিক টন বীজ আলুতে অব্যবস্থাপনার কারণে অকাল অঙ্কুরোদগম ঘটেছে। তারা যথারীতি এ বিষয়ে হিমাগার কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে যান। বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ আবার ২৪-০৭-২০১৩ তারিখে ঐ হিমাগারে গিয়ে সমস্ত বীজ আলুতেই অকাল অঙ্কুরোদগম দেখেন। তখন তারা ১৫২ মেট্রিক টন বীজ আলুকে অবীজ ঘোষণা করে হিমাগারটির প্রত্যয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এখন প্রশ্ন হলো—এই যে ১৫২ মেট্রিক টন বীজ আলু হিমাগারের অব্যবস্থাপনায় নষ্ট হয়ে গেলো তার প্রতিকার কী? এ অবস্থায়, কৃষক স্বার্থ তথা দেশের উন্নয়নকে আরো বেগবান করার লক্ষ্যে অবিলম্বে বীজ সংরক্ষণ নীতিমালা ও হিমাগারগুলোতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কৃষক স্বার্থ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতনমহলের দৃষ্টি আকষর্ণ করছি। আনিসউল হক, অ্যাডভোকেট, আইনজীবী সমিতি, নীলফামারী।