দুর্নীতি মাদক সন্ত্রাস প্রশ্নে আপস নেই

সুনামগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেছেন, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের প্রশ্নে কোন আপস নেই। ভদ্রলোকের মুখোশ পরে দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের পক্ষে যারা অবস্থান নেবেন, গণপ্রতিরোধের মুখে তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন। তিনি দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রাজপথে ঐক্য গড়ার প্রস্তুতি নিতে আহবান জানান। সোমবার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার প্রেসক্লাব মাঠে উপজেলা জাতীয় পার্টি আয়োজিত এক গণসংবর্ধনায় তিনি এসব কথা বলেন। গণসংবর্ধনায় দল-মত নির্বিশেষ হাজারো মানুষের ঢল নামে। পীর মিসবাহ সভাস্থলে আসার পথে পলাশ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় ছাত্র-জনতার এক সংবর্ধায় বক্তব্য রাখেন। উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মাস্টারের সভাপতিত্বে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় পীর মিসবাহ আরও বলেন, ২০ বছরের আইনপেশায় কোনদিন কোন দুর্নীতির সঙ্গে আপস করিনি। তিনি আরও বলেন, বিশ্বম্ভরপুরের ফতেপুর ইউনিয়নে এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও যখন একটি বিদ্যুতের বাতি জ্বলার সুযোগ করে দেয়া হয়নি ঠিক সেই মুহূর্তে পাওয়ার স্টেশন নির্মাণের জমি অধিগ্রহণের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়। আর সেই টাকায় লন্ডনে বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ মালিক বনে যান কেউ কেউ। তিনি বলেন, আমি যখন দুর্নীতি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সোচ্চার হয়েছি, তখন তারা একত্রিত হতে শুরু করেছে। আমি তাদের রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না। তিনি আরও বলেন, আমার বাড়িটি সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। পীর মিসবাহ বলেন, আমি সংসদে বলেছিলাম আমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কোন স্বার্থের জন্য আপনাদের জন্য কোন মন্ত্রীর কাছে, সরকারি কোন কর্মকর্তার কাছে যাব না। কিন্তু আমার সুনামগঞ্জের মানুষের স্বার্থের জন্য আপনাদের কাছে বার বার আসব। তিনি বলেন, যোগাযোগ মন্ত্রী কথা দিয়েছেন, এ অর্থ বছরে সুরমা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেবেন। তিনি বলেন, সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। পীর মিসবাহ সুনামগঞ্জ-৪ আসনের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। গণসংবর্ধনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, জেলা যুব সংহতির আহবায়ক মোহাম্মদ আলী খোশনূর, সদর উপজেলা জাপার আহবায়ক আব্দুর রশীদ, জাপা নেতা গোলাম মোস্তফা মাস্টার, উপজেলা যুব সংহতির সভাপতি মহিম উদ্দিন প্রমুখ।