পাকিস্তানের বকেয়া ঋণ নিয়ে জটিলতা

পাবনা সুগার মিল ও মংলা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি স্থাপনে পাকিস্তানের কাছ থেকে ১৯৯২ সালে নেয়া ঋণ সম্পূর্ণ পরিশোধ না করায় সুদ ও দণ্ড সুদ মিলিয়ে বড় আকারের পাওনা দাবি করছে পাকিস্তান। বার বার তাগাদা দিয়েও পাকিস্তানের এ ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। পাবনা সুগার মিল স্থাপনে নেয়া ঋণ ২০০৮ সালের মধ্যে পরিশোধ করার লক্ষ্য থাকলেও বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন (বিএসএফআইসি) ২২ কিস্তির মধ্যে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পরিশোধ করেছে মাত্র ১৫টি কিস্তি। একই সময়ে মংলা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি স্থাপনের জন্য নেয়া ঋণের শেষ কিস্তি পরিশোধে বিলম্ব করায় তার সুদ ও দণ্ড সুদের বড় পাওনা দাবি করেছে। সুগার মিল স্থাপনে চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন ১৯৯২ সালে ১ কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার ডলার ঋণ গ্রহণ করে। বার্ষিক ২ শতাংশ সুদে নেয়া এ ঋণের দণ্ড সুদের পরিমাণ হলো লন্ডন আন্ত:ব্যাংক সুদ হার (লাইবর) থেকে এক শতাংশ বেশি। ফলে সুদ ও দণ্ড সুদ মিলিয়ে বকেয়া ঋণের পরিমাণ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তানের দেয়া হিসেবে সবমিলিয়ে বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩ লাখ ৫৬ হাজার ডলার। কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ক্রমাগত লোকসানে আর্থিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটের শুরুতে (জুন ২০১৩ পর্যন্ত) চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩০ কোটি টাকা। সময়মতো বেতন ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব আসিফ-উজ-জামান ইত্তেফাককে জানান, এ ঋণ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন ও সেনা কল্যাণ সংস্থার মাধ্যমে এসেছে। বর্তমানে পাকিস্তানের দাবিকৃত ঋণের পরিমাণ ও সংস্থা দুটির হিসেবেও ফারাক রয়েছে। পাকিস্তান বিভিন্ন সময়ে এ ঋণ পরিশোধে তাগাদা দিলেও তার সুরাহা হয়নি। সেনা কল্যাণ সংস্থার পক্ষে এ ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হলেও লোকসানি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের পক্ষে এ ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নাও হতে পারে। এ বিষয়ে শিগগিরই বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। সূত্র জানায়, পাবনা সুগার মিল স্থাপনে ঋণের গ্যারান্টি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লি. (তত্কালীন বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক লি.)। ৪ বছর রেয়াতকালসহ প্রতি ছয় মাসে কিস্তি দেয়ার কথাছিলো। পাকিস্তানের দেয়া হিসাবে বকেয়ার মধ্যে আসল রয়েছে ৬১ লাখ ৬২ হাজার ডলার, সুদ রয়েছে ১০ লাখ ৫৯ হাজার ডলার। অন্যদিকে দণ্ড সুদ হয়েছে ৩১ লাখ ৩৩ হাজার ডলার। তবে কর্পোরেশনের হিসেব অনুযায়ী সবমিলিয়ে বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৮৬ লাখ ৩১ হাজার ডলার। ইআরডি সূত্রে জানা যায়, মংলা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি স্থাপনের একই সময়ে নেয়া সমপরিমাণ ঋণ ২০০৫ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ পরিশোধের সিডিউল নির্ধারিত থাকলেও সেনা কল্যাণ সংস্থা ঋণের শেষ কিস্তি প্রদানে বিলম্ব করে। অন্যদিকে শেষ কিস্তিটি পাকিস্তান সরকার আরও বিলম্বে হিসাবভুক্ত করায় সুদ, দণ্ড সুদ এবং মুদ্রার বিনিময় হার মিলিয়ে বকেয়া ঋণের পরিমাণ ব্যাপক হারে বেড়েছে। পাকিস্তানের দেয়া হিসাবে এর পরিমাণ ৭ লাখ ৬৭ হাজার ডলার। তবে সেনা কল্যাণ সংস্থা মোট বকেয়া ঋণের পরিমাণ উল্লেখ করেছে ৩৪ হাজার ডলার। বৈদেশিক উত্স থেকে বিভিন্ন সময়ে ঋণ গ্রহণ করলেও সরকার তা সময়মতো পরিশোধ করছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মাধ্যমে ঋণ চুক্তি না হওয়ায় এ ধরনের ঋণ খেলাপির ঘটনা ঘটছে যা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করেন ইআরডি’র কর্মকর্তারা।