চেয়ারম্যান প্রার্থীদের অর্ধশত কোটিপতি

তৃতীয় ধাপে আগামী ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য ৮৩টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের অর্ধেকের বেশির (৫২ দশমকি ৪২ শতাংশ) পেশা ব্যবসা। যাদের মধ্যে অর্ধশতই কোটিপতি। আর ১৬ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা মামলা (৩০২ ধারা) এবং ২৭ জনের বিরুদ্ধে অতীতে এ ধরনের মামলা ছিল। গতকাল সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এসব তথ্য প্রকাশ করেছে। তথ্য তুলে ধরেন সুজনের সহযোগী সমন্বয়কারী সনজিদা হক। সনজিদা হক জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মোট প্রার্থী ৪৩৪ জন। এর মধ্যে ৩৯৩ জনের তথ্য পেয়েছে সুজন। এতে দেখা যাচ্ছে, ২১০ জন প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা স্নাতকোত্তর, এসএসসি পাস ৫৩ জন, ৪৮ জন এইচএসসি পাস এবং ৭৮ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির নিচে। এসব প্রার্থীর মধ্যে বর্তমানে মামলা রয়েছে ১১৮ জনের বিরুদ্ধে (৩০ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ)। ১১৬ জনের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে ২৭৮ জনের বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ টাকা বা তার নিচে। প্রার্থীদের ৫৯ জনের সম্পদের মূল্য ৫ লাখ টাকার কম। কোটিপতির সংখ্যা ৫০ জন এবং এর মধ্যে ৫ কোটি টাকার অধিক সম্পদের মালিক ৫ জন। তাদের ১২১ জনের বাত্সরিক আয় ২ লাখ টাকার মধ্যে। বাত্সরিক ১ কোটি টাকার বেশি আয় করেন ২ জন। এছাড়া ৩৯৩ জন প্রার্থীর ৫৪ জনই ঋণগ্রহীতা। তাদের মধ্যে কোটি টাকার অধিক ঋণ নিয়েছেন ৭ জন। এর মধ্যে ৫ কোটি টাকার অধিক ঋণ রয়েছে ৫ জন প্রার্থীর। ৩৩৯ জন প্রার্থীর কোনো ঋণ নেই। নিয়মিত আয়কর দেন ১৪৮ জন, তার মধ্যে ৫ হাজার টাকার কম আয়কর দেন ৯৬ জন। লাখ টাকার উপর আয়কর দেন ২০ জন। আর ৫ লাখ টাকা আয়কর দেন ৭ জন এবং ১০ লাখ টাকা আয়কর দেন ৫ জন। ‘মন্ত্রীর বক্তব্য দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির প্রতি আত্মসমপর্ণের শামিল’ সংবাদ সম্মেলনে সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের হলফনামা-বিষয়ক এক মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘মন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির প্রতি আত্মসমপর্ণের শামিল।’ গণমাধ্যমে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ সম্পর্কে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘হলফনামা রাজনীতিবিদদের চরিত্র হনননামা’। সুজন সম্পাদক বলেন, ‘এ আইনটি ২০০৫ সালে তত্কালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই উপস্থাপন করেছিলেন। এখন তারাই যদি তা বাতিল করে, তাহলে এটি হবে দুর্ভাগ্যজনক।’ তিনি আরো বলেন, ‘ভোটগ্রহণে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চিরতরে বিদায় নিয়েছিল মনে করেছিলাম, কিন্তু দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন থেকে এখন পর্যন্ত অনেকের মৃত্যুতে মনে হচ্ছে সে সংঘাতময় পরিস্থিতি আবার ফিরে এসেছে। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সুজনের কোষাধ্যক্ষ আবদুল হক, সহ-সভাপতি আবুল হাসনাত প্রমুখ।