দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দাঁড় করাতে হবে বিচারের কাঠগড়ায়

দেশ-বিদেশের সব ধরনের প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ের দুর্নীতিগ্রস্ত নীতির ফলে দেশের পরিবেশ, আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও রাজনীতি বিপর্যস্ত হচ্ছে। এই দুর্নীতিগ্রস্ত নীতির জন্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সদস্যরা। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন’ (পবা) আয়োজিত ‘দুর্নীতিগ্রস্ত নীতি ও পরিবেশ বিপর্যয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ দাবি জানান। পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পবার সম্পাদক হাসান তারিক চৌধুরী। নির্ধারিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ, তেল গ্যাস বিদ্যুত্ ও বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু-মুহাম্মদ, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখার উজ-জামান ও পবার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আসলাম খান প্রমুখ। হাসান তারিক চৌধুরী মূলপ্রবন্ধে বলেন, রাজউকের দুর্নীতিগ্রস্ত নীতির কারণে মূল কাজ বাদ দিয়ে নিজেই ডেভেলপারের ভূমিকা গ্রহণ, সংসদ সদস্য ও সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জন্য প্লট বরাদ্দের নীতিতে ব্যস্ত থাকা ও অপরিকল্পিত নগর উন্নয়নকে কার্যত নীতি হিসেবে গ্রহণ করার ফলে ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোর আজ এই দুরাবস্থা। অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে, রাজউক তাদের সমস্ত মনোযোগ ও জনবলের অধিকাংশই নগর উন্নয়নের কাজে ব্যবহার না করে প্লট বিতরণ ও ভবন নির্মাণের কাজে যুক্ত করেছে। যার সঙ্গে রয়েছে সরকার ও সরকারের বাইরের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দুর্নীতির নিবিড় যোগাযোগ। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ৮০’র দশকের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশের পাবলিক সেক্টরকে পঙ্গু করে দিয়ে ঢালাওভাবে প্রাইভেট সেক্টরকে রাষ্ট্রীয় মদদ দেয়া হয়েছে। এই প্রাইভেট সেক্টরই অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বিধ্বংসী দানবের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্নীতির কারণে বহুজাতিক কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় সিলেটের মাগুরছড়া ও টেংরাটিলায় দেশের ৫বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ধ্বংস করা হয়েছে। এদের কাছ থেকে বাংলাদেশ ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪০বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাওনা রয়েছে। রাষ্ট্রের এসব ব্যর্থতার দায়ভার জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়া দেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইনের পরিপন্থি। ড. ইফতেখার উজ-জামান বলেন, দুর্নীতির এক ধরনের রাজনৈতিক অর্থনীতি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রই দুর্নীতিগ্রস্ত নীতি ও দুর্নীতির সহযোগীতে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্ত নীতি ও দুর্নীতির জন্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তিনি বলেন, বিপুল পরিমাণ অনুপার্জিত অর্থই দুর্নীতির অন্যতম প্রধান কারণ। আবু নাসের খান বলেন, বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ এর তথাকথিত কাঠামোগত সংস্কার নীতির দোহাই দিয়ে ৮০’র দশকের শেষভাগ থেকেই গণপরিবহনকে অদক্ষতার অভিযোগে অভিযুক্ত করে দেশের রেল যোগাযোগ সংকোচনের অঘোষিত নীতি চালু করা হয়েছে। একদিকে স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত রেল যোগাযোগের কোন সম্প্রসারণ হয়নি। পাশাপাশি মন্ত্রী-এমপিদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি, সরকারি ও বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য পর্যাপ্ত দামী ও বড় প্রাইভেট গাড়ি সরবরাহ করে তাদেরকে গণপরিবহন ব্যবস্থার প্রতি বিমুখ করে তোলা হয়েছে। তিনি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমগুলোকে এ বিষয়ে গবেষণা ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করার আহবান জানান।