আমাদের কান্না শোনার কি কেউ নেই?
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৪, ২৩:০০
‘একমাত্র ছেলে ৪২ দিন ধরে নিখোঁজ। বেঁচে আছে, না মরে গেছে - এ প্রশ্নের জবাব খুঁজতে থানা, র্যাবসহ আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার কাছে ধরনা দিয়েও কোন সদুত্তর মেলেনি। বাস্তবতা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আমাদের কান্না শোনারও কেউ নেই!’
বলছিলেন নিখোঁজ ছাত্রলীগ নেতা তানভীর হাসান অঞ্জনের বাবা। রাজধানীর ভাটারা থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর গত ২৮ জানুয়ারি বাসা থেকে বের হয়ে আর বাসায় ফিরেননি। তিন দিন পর বিমানবন্দর এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তার মোটর সাইকেল। ঘটনার এক মাস পর তানভীরের বাবা ব্যবসায়ী তমিজ উদ্দীন মোল্লা গত ১ মার্চ বাড্ডা থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা দফতরে নেয়ার জন্য ডিএমপি কমিশনারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
চার বোনের একমাত্র ভাই তানভীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র। বাসা জোয়ার সাহারায়। তার মা নার্গিস বেগম বলেন, ঘটনার দিন দুপুরের খাবারের পর তানভীর তার বন্ধু সানির ছোট ভাই ইভানকে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। তার সন্ধানে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সন্ধান চালালেও কেউ তার সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেননি।
নিখোঁজ তানভীরের চাচা সিরাজ মোল্লা বলেন, ঘটনার পর ভাটারা ও উত্তরা থানায় দুইটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। কিন্তু ঐ ডায়েরি নিয়ে পুলিশের কোন কিছু করণীয় আছে বলে মনে হয়নি। বাধ্য হয়ে পরে ভাটারা থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। তিনি জানান, মামলাটির তদন্ত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) দফতরে স্থানান্তরের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। তবে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত এ ব্যাপারে আদেশ হয়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার সাব-ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম বলেন, তানভীর, তার বন্ধু-বান্ধব ও বাসার আশপাশের বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইল ফোন নম্বর পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু নিখোঁজের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, তানভীরের ব্যবহূত মোবাইল ফোনটি বন্ধ। ঘটনার পর এটি কেউ ব্যবহার করেনি। স্বজনদের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, মামলা তদন্তে পুলিশের আন্তরিকতার কমতি নেই। সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তানভীরের চাচা সিরাজ মোল্লা জানান, তানভীরের সঙ্গে কারো কোন ধরনের বিরোধ ছিল না। ফলে নিখোঁজ হওয়ার কোন কারণও আঁচ করতে পারছেন না। তারপরও তিনি ধারণা করছেন, ঘটনার সঙ্গে তার বন্ধুরা জড়িত থাকতে পারে। তিনি বলেন, বাসা থেকে বের হবার আগে একই সঙ্গে খাবার খায় ইভান ও তানভীর। ইভানের বাসা উত্তরা এলাকায়। পরবর্তীতে ইভানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা দুজন সেদিন উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরে কেএফসির সামনে গিয়েছিল, সেখানে সানি ছিল। সানির কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে তানভীর বাড়ির পথে রওনা হয়। এরপর আর কোন যোগাযোগ হয়নি ইভানের সঙ্গে।
অঞ্জনের বাবা তমিজ উদ্দীন বলেন, তানভীর তার একমাত্র ছেলে। তার অনুপস্থিতিতে গোটা পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ঘটনার পর থেকে রাজধানীর সব হাসপাতাল-মর্গ তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি। এখনও কোন লাশ উদ্ধারের খবর পেলেই ছুটে যাই সেখানে। তিনি আরো বলেন, দিন যতো গড়াচ্ছে ততই অজানা আশংকা বাড়ছে। তারপরও তানভীরের মাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করি, ‘আমাদের তানভীর, আমাদের কাছে জীবিতই ফিরবে।’ কিন্তু জানি না, এটা কতটা সত্য?