পুনর্গঠিত হচ্ছে ছাত্রদল প্রাধান্য পাচ্ছে ছাত্রত্ব
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৪, ২৩:০৩
বয়স কমিয়ে আনার পরিকল্পনায় চিন্তিত বর্তমান কমিটির কয়েকজন
কেন্দ্রীয় কমিটি এখনই পুনর্গঠন নয়, ঢাবি শাখা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া চলছে :এ্যানি
ছাত্রদলকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। ছাত্রদলের নেতৃত্বে অপেক্ষাকৃত অল্প বয়স্কদের এবং ছাত্রদের প্রতিষ্ঠিত করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। পদায়নের ক্ষেত্রে নিয়মিত ছাত্রত্ব, সততা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির নীতি-নির্ধারণে ভূমিকা রাখা কয়েকজন নেতা। তবে সংগঠনের নেতৃত্বে অল্প বয়স্কদের আনার পরিকল্পনায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির কয়েকজন নেতা। তারা মনে করছেন, নেতৃত্বে নাটকীয়ভাবে বয়স কমিয়ে আনলে সংগঠন আরো দুর্বল হয়ে উঠতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় ‘ষড়যন্ত্রও’ দেখছেন তারা।
বিএনপি এবং ছাত্রদলের একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপির সরকার বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শাখার শীর্ষ নেতাদের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আন্দোলনে ‘ঠিকমত ভূমিকা’ পালন না করা এবং ছাত্র-অধিকার ইস্যুতে জোরালো ভূমিকা না রাখায় ছাত্রদল নেতাদের ভর্ত্সনাও করেছেন তিনি। জানা যায়, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সাথে খালেদা জিয়ার বৈঠকে সংগঠনটির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী সংগঠনের কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ভেঙেও দেয়া হয়। নতুন কমিটি গঠন না করা পর্যন্ত বর্তমান কমিটি শুধু রুটিন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ছাত্রদলের সাবেক এবং বিএনপির একাধিক নেতা জানান, ছাত্রদলকে পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত। তবে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ কারাগারে বন্দী থাকায় কেন্দ্রীয় কমিটি এখনই ভেঙে দেয়া হবে না। এছাড়া এ কমিটির মেয়াদও আগামী সেপ্টেম্বরে শেষ হবে। তবে সংগঠনের এক নম্বর শাখা হিসেবে বিবেচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আগে পুনর্গঠন করতে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এদিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্তত দশজন সহ-সভাপতি এবং যুগ্ম-সম্পাদক জানিয়েছেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাকে একসাথে কাজ করতে হয়। কেন্দ্রের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বোঝাপড়ায় ঘাটতি থাকলে সংগঠনও দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্তমান কমিটির ‘ব্যর্থতার’ পিছনেও এ বোঝাপড়ার অভাব ও দূরত্বই প্রধান কারণ। এ অবস্থায় আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটি গঠন এবং পরে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হলে একই সমস্যা রয়ে যাবে। ছাত্রদলের এক জন যুগ্ম-সম্পাদক বলেন, সংগঠনকে দুর্বল করতে যারা সক্রিয় তারাই কেন্দ্রীয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির মধ্যে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করে। কেন্দ্রের আগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা পুনর্গঠনের চেষ্টা ‘ষড়যন্ত্রের’ অংশ। তাই দেরি হলেও একইসাথে কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।
তারা জানান, ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার হল শাখাগুলোতে কমিটি নেই প্রায় নয় বছর ধরে। সর্বশেষ ২০০৪ সালে হল কমিটি গঠন করা হয়। এ কারণে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃত্ব নির্বাচনে সংশ্লিষ্টরা ‘হিমশিম’ খাচ্ছেন। গত ছয়-সাত বছর ধরে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্বে চল্লিশোর্ধ্ব বয়সের নেতারা ঘুরেফিরে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন। এটি হতাশ করেছে নিয়মিত ছাত্রদের। তাই নেতৃত্বের তরুণ ধারা প্রতিষ্ঠা করতে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনে বয়স কমিয়ে আনতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃত্ব গঠনে ছাত্রত্ব গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।
এদিকে ছাত্রদলের বর্তমান নেতাদের অনেকেই বিবাহিত এবং সন্তান রয়েছে। এদের কারও বিয়ের বিষয়টি প্রকাশিত এবং কারোটি অপ্রকাশিত। বিবাহিতদের নেতৃত্বে দেখতে চান না নিয়মিত ছাত্রত্ব রয়েছে ছাত্রদলের এমন কর্মীরা।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ছাত্রদলের পুনর্গঠনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ তিন নেতাই কারাগারে বন্দী। তাই কেন্দ্রীয় কমিটি এখনই পুনর্গঠন করা হবে না। অপেক্ষা করতে হবে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এ কমিটির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, নতুন কমিটি গঠনে নিয়মিত ছাত্রত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেতাদেরকে অবশ্যই নিয়মিত ছাত্র হতে হবে।