বিশ্বব্যাংক থেকে মাগনা ঋণ না, শোধ করি :জয়
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৪, ২৩:০৪
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, দেশ আমাদের, এখানে আমরা কি করবো সেটাই বড় কথা। বিশ্বব্যাংকের অভ্যাস টাকা দিয়ে শর্ত জুড়ে দেয়া। বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। আমরাও ফকিরের দেশ না। বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে আমরা মাগনা ঋণ নেই না। শোধ করি। তাই আমরা যা চাই সেটাই করব।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলে এক মতবিনিময় সভায় গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত হাইটেক পার্কে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন প্রসঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয় এ কথা বলেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এবং তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আহমেদ পলকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আমরা যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেছি, তখন এতো উন্নয়ন সম্পর্কে আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি দিয়ে সরকার ব্যবসা করবে না, বরং এ খাতে যারা আসবেন তাদের সহযোগিতা করবে। ইতিমধ্যে আইটি খাতে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কল সেন্টার। এরপর সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্ম, যেমন মোবাইল অ্যাপস। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে অদূর ভবিষ্যতে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করতে পারার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বিশ্ব ব্যাংক টাকা না দিলে না দেবে। আমরা নিজেরাই টাকা জোগাড় করে নেবো। তারা যদি টাকা দেয় দেবে; কিন্তু কাজ হবে আমাদের মতো করে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, কেউ কল্পনা করতে পারেনি আমরা মাত্র পাঁচ বছরে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে এত দ্রুত এগিয়ে যাবো। আমরা সরকারকে ডিজিটালাইজ করেছি। মানুষ ই-তথ্য সেবা ও মোবাইলে টাকা পাঠানোর বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা ভোগ করছে। আগামীতে আইটি শিল্পের উপর জোর দেয়ার কথা উল্লেখ করে জয় বলেন, আমাদের এখানে দ্রুত কল সেন্টারের বিকাশ ঘটেছে। এখন গুরুত্বপূর্ণ আইটি শিল্পকে উন্নত করা। আমাদের সফটওয়ার ডেভেলপ করতে হবে। তিনি বলেন, ২০ হাজার ব্যক্তিকে আইটি বিষয়ে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। মহাজোট সরকারের ডিজিটালাইজেশনের সুবিধা মানুষ ভোগ করছে জানিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বর্তমানে মানুষ প্রযুক্তি থেকে অনেক সুবিধা পাচ্ছে। এরমধ্যে টেন্ডারিং, ই-ফাইলিং রয়েছে। ই-টেন্ডারিংয়ের ফলে এখন টেন্ডারবাজি কমে গেছে। ই-ফাইলিং হলে সরকারি জটিলতা ও দুর্নীতি কমে যাবে। আগামীতে ১ বিলিয়ন ডলার প্রযুক্তি পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আইটি খাতের উন্নয়ন হলে সরকারের আয় বাড়বে। এতে করে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতনও বাড়ানো হবে। এটি মানুষকে উপরে টেনে তুলতে পারবে। সবাই মিলে আমরা এ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারি।