বেশিরভাগ লেভেল ক্রসিংই অরক্ষিত

অরক্ষিত রেল গেইটে তদারকি না থাকা, অনিয়ম-দুর্নীতি এবং অসতর্কতার কারণে রেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে। চট্টগ্রামের শাখা রেল লাইনসমূহের বিভিন্ন রেল গেইটের আশ-পাশে, এমনকি দু’টি লাইনের মধ্যবর্তী স্থানে হাট-বাজার গড়ে উঠায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। রেলের সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এ সকল ক্ষেত্রে কোন প্রকার তদারকি না থাকায় রেল লাইনের পাশে ছোট-বড় স্থাপনা গড়ে উঠছে। অভিযোগ রয়েছে রেলের এস্টেট বিভাগ, প্রকৌশল বিভাগ, ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ সকল অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তাছাড়া রেলের বৈধ ও অবৈধ গেটসমূহের ক্ষেত্রে রেলের সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তদারকি না থাকায় সেগুলো এক প্রকার অরক্ষিত থাকে। বৈধ গেটসমূহেও অনেক সময় গেটম্যান থাকে না। রেলের বিভিন্ন লেভেল ক্রসিং গ্রেডেশন করার ক্ষেত্রেও সঠিকভাবে নিয়ম মানা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। কারণ রেলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন লেভেল ক্রসিং দিয়ে কি পরিমাণ যানবাহন ও লোকজন পারাপার করে তা অনেক সময় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে আনা হয় না। কারণ এক বছর পূর্বে কোন এক লেভেল ক্রসিং দিয়ে যে পরিমাণ যানবাহন ও লোক চলাচল করত, এক বছর পর দেখা গেছে তা অনেক গুণ বেড়ে গেছে। একইভাবে অনেক অবৈধ লেভেল ক্রসিং দিয়ে যানবাহন ও লোক চলাচল অনেক বৈধ লেভেল ক্রসিং এর চেয়ে বেশি দেখা যায়। রেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, সঠিক মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের লেভেল ক্রসিংয়ে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। তাছাড়া যে সকল অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে সে সকল স্থান দিয়ে রেল চলাচলে চালকদের সতর্কতা অবলম্বন করার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয় না। ফলে বিভিন্ন সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অবতারণা হয়। ইতিপূর্বে চট্টগ্রামের ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল লাইনের বাড়বকুন্ড এলাকায় এক দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে রেলের নেটওয়ার্ক লেভেল ক্রসিং গেইটের বর্তমান অবস্থা নিয়ে রেল পথ মন্ত্রণালয়ের এক সভায় ৫টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়ক রেল ক্রসিংয়ের পরিবর্তে গ্রেড সেপারেশন (ফ্লাইওভার, ওভারপাস, আন্ডারপাস) নির্মাণ করা। অবৈধ ক্রসিংগুলো বৈধ করার জন্য অর্থ বরাদ্দ প্রদান। রেলের অনুমতি ছাড়া রেল ক্রসিং না করা। বৈধ রেল ক্রসিংসমূহ সংস্কার করা। এ সকল সিদ্ধান্ত এখনও বাস্তবায়নের কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে জানা যায়।