সাবিহা-খোরশেদ আরার মনোনয়নপত্র বাতিল

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবিহা নাহার বেগম (সাবিহা মুসা) ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী খোরশেদ আরা হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে ৫০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও যুগ্ম সচিব জেসমিন টুলী তাদের দুই জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। ওই দুই এমপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে টেলিফোন বিলখেলাপির অভিযোগ থাকায় তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, বাতিলকৃতরা আপিলের সুযোগ পাবেন। শুনানি শেষে ইসি সিদ্ধান্ত জানাবে। এ দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ইসির আপিলেও খারিজ হলে দুই আসনের জন্য পুনঃতফসিল দিতে হবে। কিন্তু প্রার্থিতা ফিরে পেলে তার দরকার হবে না। ইসি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী খোরশেদ আরা হক দুই লাখ ২৩ হাজার ৪শ’ ৮৮ টাকা টেলিফোন বিল পরিশোধ না করায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তিনি কক্সবাজার সদর আসনে জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী। এছাড়া আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী সাবিহা নাহার বেগমের কাছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) পাওনা ১১ হাজার ৮৩৫ টাকা। তবে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগে দুই প্রার্থী তাদের বকেয়া বিল পরিশোধ করেছেন। নিয়ম অনুসারে মনোনয়নপত্র দাখিলের অন্তত এক সপ্তাহ আগে বিল পরিশোধ না হওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা তা বাতিল করেন। এর আগে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন বাতিলের পর যারা আপিল করেছেন, তাদের সবাই পরে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আপিলের পরও কারো প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার নজির নেই। তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় খোরশেদ আরা হক বলেন, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ১৯৭৩ সালে একটি নারী পুর্নবাসন কেন্দ্র পরিচালনা করেছেন। ওই টেলিফোন বিলটি ছিল নারী পুর্নবাসন কেন্দ্রের নামে, তার নিজের নামের নয়। বিটিসিএল থেকে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তা ষড়যন্ত্রমূলক। তাছাড়া এখন নির্বাচন কমিশনে বকেয়া বিলে আছে বলা হলেও এর আগে কখনো তার নামে বকেয়া বিল আছে এমনটি জানানো হয়নি। সাবিহা নাহার বেগম জানান, তিনি আজ নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন। এছাড়া আয়কর বিবরণী জমা না দেয়ায় রিফাত আমিনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়ে রিফাত আমিন তার আয়কর বিবরণী দাখিল করলে পরবর্তীতে তা বৈধ ঘোষণা করা হয়। জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে গেজেট প্রকাশিত ২৯৭ জন এমপি (নির্বাচিত এমপির মৃত্যুতে শূন্য আসন টাঙ্গাইল-৮) এবার তিনটি আলাদা জোটে বিভক্ত হয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন এমপি নির্বাচন করছেন। সরকারি দল ও বিরোধী দলের বাইরে হাজী মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে স্বতন্ত্র জোট এই প্রথম সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ভাগ পাচ্ছে। এবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে পাবে ৪১টি আসন। প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ৬টি, বাকি ৩টি নারী আসন পাবে ১৬ জন স্বতন্ত্র এমপির জোট। গত রবিবার নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দল ও জোট মনোনীত ৫০ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩৯ আসনে এবং তাদের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদের একজন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। একই দিন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির খোরশেদ আরাসহ ৬ জন ও স্বতন্ত্র জোটের ৩ জন প্রার্থীও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। পরে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব সিরাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত পুনঃতফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ৯ মার্চ। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ছিল গতকাল। বৈধ প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ মার্চ। আর ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৩ এপ্রিল।