অস্কার কন্যার গল্প
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৪, ১৮:৩৪
অস্কার সবার জন্য এক মূল্যবান পুরস্কার। আর এই পুরস্কারের জন্যই সারাবছর অপেক্ষায় থাকেন সব অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। রেড কার্পেটের সব তারকাদের জন্য এই পুরস্কার নিয়ে আসে খ্যাতি। এবারের অস্কারে সেরা অভিনেত্রীর কথা জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটার। এখানে বসছে ৮৬তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের আয়োজন। চারপাশে পিনপতন নীরবতা, এখনই ঘোষণা করা হবে সেরা অভিনেত্রীর নাম। দর্শক-শ্রোতাদের সাথে মনোনায়ন পাওয়া অভিনেত্রীরাও অপেক্ষায় রয়েছেন, কার নাম ঘোষণা করবে এখন। এরমধ্যেই বিদ্যুত্ চমকের মতো ঘোষণা করা হলো কেট ব্ল্যানচেটের নাম। বিস্মিত এ অস্ট্রিলিয়ান অভিনেত্রী কেট ব্ল্যানচেটকে ‘ব্লু জেসমিন’ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার দেওয়া হয়। এর আগে ‘দ্য অ্যাভিয়েটর’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ২০০৪ সালে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার অর্জন করেন কেট। পরবর্তীকালে ছয়বার অস্কার মনোনয়ন লাভ করেন এই তারকা। হলিউডের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এ দিনটিতে কোনোভাবেই নিজের উত্তেজনা কমাতে পারেন না এ অভিনেত্রী। সব সময়ই বেশ খানিকটা শঙ্কা নিয়েই অস্কারের লাল গালিচার ওপর আসেন তিনি। ফলাফল যাই হোক, অস্কারের লাল গালিচা পর্যন্ত আসাটাই সবচেয়ে বড় সম্মানের বলে মনে করেন ছয়বার অস্কার মনোনয়ন অর্জনকারী এ তারকা। সেরা অভিনেত্রীর ফল ঘোষণার পরই কেটের উত্তেজনার অবসান ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা চিত্রনাট্যকার, পরিচালক, অভিনেতা উডি অ্যালেনের ছবি ‘ব্লু জেসমিন’-এ কেতাদুরস্ত সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তির চরিত্রে মিলেমিশে একাকার হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো লাল গালিচায় অস্কার বন্দনায় সিক্ত হলেন কেট ব্লানচেট। অস্কার বাজিমাত করতে ‘গ্র্যাভিটি’র সান্দ্রা বুলকই ছিলেন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী। মহাকাশে আটকে পড়া নভোচারী সান্দ্রাকেও আবহ ফোটাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চাঁদের পোশাক পরে দারুণ কসরত করতে হয়েছিল। ব্লানচেটের জন্য বড় উপকারটা করেছেন উডি অ্যালেন স্বয়ং। ছবিটির চিত্রনাট্য লেখার পর সবার আগে ব্লানচেটের কাছেই পাঠিয়েছিলেন কপি। রাতারাতি সেটা পড়ে পরদিনই অ্যালেনকে জানিয়ে দেন, ‘আমি আসছি, ধন্যবাদ।’ অস্কার নিতে গিয়েও উডি বন্দনায় পঞ্চমুখ, ‘একটি অনবদ্য চিত্রনাট্যের কল্যাণেই আমি আজ এই মঞ্চে। আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ, উডি।’ প্রথাগতভাবে সমাজের উঁচু শ্রেণী বলতে যা বুঝি আমরা, সেই আধেক জৌলুসে ভরা, আধেক বিষণ্নতায় মোড়ানো চেহারাগুলোর আড়ালে যে আরও কী কী অদেখা খেলা করে, ‘ব্লু জেসমিন’ ছবিতে সেটাই দেখিয়েছেন ব্লানচেট ওরফে ম্যানহাটানের ধনিকশ্রেণীর বাসিন্দা জেসমিন ফ্রেঞ্চ। জীবনের বড় সঞ্চয়ের সব খুইয়ে নিউ ইয়র্ক ছেড়ে সান ফ্রান্সিসকোতে দরিদ্র বোনের কাছে চলে যান। মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার মধ্যে উডি অ্যালেন আসলে জেসমিনের জীবনের আশপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কিছু ঝড়ঝাপটাই ফুটিয়ে তুলেছেন। শেষ দৃশ্যেও ধরা পড়ে এক ডুবন্ত জেসমিন। ভেসে থাকার জন্য বেঞ্চে বসে এক টুকরো খড়কুটো খুঁজে বেড়ায় তাঁর কাতর চোখ জোড়া। আর অমন দৃষ্টিতে অস্কার কমিটি আবেগাপ্লুত না হয়ে কি পারে! সিনেমায় জেসমিনের সময় ফুরালেও ব্লানচেটের সময় এখনও ফুরিয়ে যায়নি। এ বছর তার ছবি আছে পাঁচটি। ২০১৫ সালে যোগ হচ্ছে আরও তিনটি। এর মধ্যে যদি আরও একবার শিকে ছেঁড়ে তবে নাম লেখাবেন তিনবার অস্কারজয়ী মেরিল স্ট্রিপের সঙ্গে। যদি দুবার জুটেই যায়, তাহলে অস্কারের সংখ্যায় ব্লানচেট হয়ে যাবেন ক্যাথরিন হেপবার্নের যোগ্য সই। আরও মিল আছে বটে। ২০০৪ সালেই মার্টিন স্করসিজের ‘দ্য এভিয়েটর’ ছবিতে ব্লানচেট অভিনয় করেছিলেন হেপবার্নের চরিত্রে!
কেট সম্পর্কে কিছু কথা :ক্যাথরিন এলিস ‘কেট’ ব্লানচেট একজন অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী ও নাট্য নির্দেশক। তিনি তার অভিনয় প্রতিভার জন্য বেশ কয়েক রকমের পুরস্কার পেয়েছেন। তার মধ্যে আছে দুইবার করে স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড, গোল্ডেন গ্লোব, বাফটা পুরস্কার, এবং একাডেমি পুরস্কার। সেই সাথে তিনি ৬৪তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে ভলপি কাপ খেতাবে ভূষিত হয়েছিলেন। শেখর কাপুর পরিচালিত, ১৯৯৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘এলিজাবেথ’-এ অভিনয় করে কেট ব্লানচেট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসেন। সেখানে তিনি ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সেই সাথে পিটার জ্যাকসন পরিচালিত ‘লর্ড অব দ্য রিংস’ ত্রয়ীতে এলফের রানি গ্যালাড্রিয়েল, ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য কিংডম অব ক্রিস্টাল স্কাল’ চলচ্চিত্রে কর্নেল-ডাক্তার ইরিনা স্পালকো এবং মার্টিন স্করসিজের পরিচালিত ‘দ্য এভিয়েটর’-এর ক্যাথরিন হেপবার্নের ভূমিকায় অভিনয় করার জন্যও বিশেষভাবে পরিচিত। ‘দ্য এভিয়েটর’-এ তার অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। বর্তমানে তিনি ও তার স্বামী অ্যান্ড্রু আপটন সিডনি থিয়েটার কোম্পানিতে শিল্প নির্দেশক হিসেবে কর্মরত।